অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) প্রসঙ্গ টেনে এনে এদিন সেনাকে (Indian Army) ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi)। পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা, জলদস্যু দমন, বিদেশে বিপদে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সেনাদের ভূমিকা তুলে ধরেন।
.jpeg.webp)
নরেন্দ্র মোদী। ফাইল চিত্র।
শেষ আপডেট: 15 September 2025 18:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৫ সালকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সংস্কারের বছর (Year of Reforms) ঘোষণা করে সশস্ত্র বাহিনীকে নতুন দিশা দেখাতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সোমবার কলকাতায় আয়োজিত কম্বাইন্ড কমান্ডার্স’ কনফারেন্সে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন— দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী করতে হলে এখনই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, আজকের দিনে যুদ্ধ শুধু সীমান্তে গুলি চালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রযুক্তি, কৌশল এবং উদ্ভাবনের ওপরও নির্ভর করছে। তাই ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে জয়েন্টনেস বা যৌথ কার্যক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে দেশীয় প্রযুক্তি ও শিল্পকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সেনাদের মধ্যে সমন্বয়, আত্মনির্ভরতা এবং উদ্ভাবনী শক্তিই হবে আমাদের আসল অস্ত্র। ভারতকে এমন এক অবস্থানে পৌঁছাতে হবে, যেখানে যে কোনও পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারবে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী দিনে দেশীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়নকে আরও উৎসাহিত করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই ডাক দেশের সামরিক প্রস্তুতিকে শুধু আধুনিকীকরণের দিকেই নয়, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত আত্মনির্ভরতার দিকেও এগিয়ে নেবে।
অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গ টেনে এনে এদিন সেনাকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা, জলদস্যু দমন, বিদেশে বিপদে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সেনাদের ভূমিকা তুলে ধরেন।
কম্বাইন্ড কনফারেন্স হল দু’বছর অন্তর সশস্ত্র বাহিনীর ব্রেইনস্টর্মিংয়ের বৈঠক। আগামী দু’দিনে বৈঠকে সেনাবাহিনীর কাঠামোগত, প্রশাসনিক ও অপারেশনাল প্রস্তুতি নিয়ে সামগ্রিক পর্যালোচনা করা হবে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, উদীয়মান প্রযুক্তি ও নতুন যুদ্ধকৌশলের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের জন্য রোডম্যাপ তৈরি হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আগামীকাল সেনা কমান্ডারদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ১৭ সেপ্টেম্বর সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানরা।