
শুক্রবার সন্ধ্যায় দমদম সেন্ট্রাল জেলের কাছে এক সভায় মোদী দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন।
শেষ আপডেট: 22 August 2025 21:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিনে পরপর দুটো জনসভা। দুটিতেই সদ্য লোকসভায় পাশ হওয়া পিএম-সিএম বিল নিয়ে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের দুষলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার সন্ধ্যায় দমদম সেন্ট্রাল জেলের কাছে এক সভায় মোদী দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন। এদিন প্রয়াত বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তপন সিকদারের প্রাক্তন কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম না করে টিএমসি নেতা-মন্ত্রীদের দুর্নীতি-ঘোটালা নিয়ে বাংলাবাসীকে সতর্ক করে দেন তিনি।
মোদী এদিন বলেন, এই বিলে বাধা দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস সহ গোটা ইন্ডি ব্লকের দলগুলি। এখানে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে তার কোনও হিসাব নেই। কেন্দ্রের পাঠানো টাকা সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছচ্ছে না। তার আগেই লুট হয়ে যাচ্ছে। মানুষের উন্নয়নের টাকা টিএমসি ক্যাডারদের জন্য খরচ হচ্ছে। এছাড়াও তিনি বলেন, মন্ত্রীর বাড়ি থেকে টাকার পাহাড় উদ্ধার হচ্ছে। আর তৃণমূল কংগ্রেস পিএম-সিএম বিলের কাগজ লোকসভায় ছিঁড়ে ফেলছেন নেতারা। আসলে টিএমসি ভয় পেয়ে গেছে। কিন্তু, এই বিলে প্রধানমন্ত্রীর কথাও রয়েছে, বুক বাজিয়ে দাবি করেন মোদী।
রাজ্যে এসেই বিরোধী দলকে তাক করে বাণ মারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ৩৯ মিনিটের ভাষণে মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, যারা জেলে যাবে, তারা পদে থাকতে পারবে না। সংবিধানের ১৩০-তম সংশোধনী বিল নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী এক তিরে কংগ্রেস, তৃণমূল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও বামেদের বেঁধেন। তিনি বলেন, যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতেই হয়, তাহলে তার পিছনে যুক্তিসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়াও জরুরি। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কারও ছাড় পাওয়ার কথা নয়।
তিনি বলেন, আজ এই আইনে যদি একজন সরকারি কর্মী দুর্নীতির অভিযোগে কয়েক ঘণ্টার জন্যও গ্রেফতার হন, তাহলে তাঁকে আপনিআপনিই সাসপেন্ড হতে হবে। তা সে যত ছোট কর্মচারীই হন না কেন। প্রসঙ্গত, পিএম-সিএম বিল লোকসভায় পেশ করার পরে তা যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পর্যালোচনার জন্য চলে গিয়েছে। বিরোধী দলের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই বিলের প্রতিবাদ করে কমিটিতে যাবে না।
মোদী সাফ জানিয়ে দেন, যেমন সরকারি অফিসার, বাবুলোগ বা যে কোনও কর্মী দুর্নীতি করলে তাঁর কর্মজীবন একেবারে মুছে যাবে। তেমনই কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী কি জেলে বসেও ক্ষমতার স্বাদ নিয়ে কাটিয়ে দিতে পারেন, প্রশ্ন মোদীর। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নাম না করে মোদী আরও বলেন, আমরা দেখেছি যে, একজন মুখ্যমন্ত্রী জেলের গারদের ভিতর বসে সরকারি ফাইলে সই করছেন। এটা যদি কোনও নেতার মনোভঙ্গি হয়, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কীভাবে চলবে?
মোদী বলেন, সংবিধানের সম্মান ও মর্যাদাহানি ও তাকে টুকরো টুকরো করে ফেলা দেখতে পারি না। তাই এই আইনে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই আইন কার্যকর করা হলে গেলে, দুর্নীতির অভিযোগে ধৃতদের ৩০ দিনের মধ্যে জামিন নিতেই হবে। তা না হলে ৩১ দিনের মাথায় তাঁর গদিও চলে যাবে। বিরোধী দলগুলির তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, এরপর আমরা খুব শীঘ্রই জাতিগত জনসংখ্যা গণনা দিকে পা বাড়াব। আমরা একটি অনুপ্রবেশকারীকেও দেশের একটি মানুষেরও চাকরি ছিনিয়ে নিতে দেব না।