এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 March 2026 12:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলের হাত ভেঙে যাওয়ায় তাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন আর জি কর হাসপাতালে। ছেলে স্ত্রী-সহ আটকে পড়েন ট্রমা কেয়ারের লিফটে (RG Kar Trauma Care)। এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর (RG Kar lift death)।
মৃতের নাম অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (৪০), তিনি দমদমের বাসিন্দা। বেসরকারি একটি সংস্থায় কাজ করতেন তিনি বলে জানা গিয়েছে।
পরিবার জানিয়েছে, ভোর ৫টা নাগাদ ঘটে ওই ঘটনা। লিফটি উপরে যেতে যেতে হঠাৎ নীচে বেসমেন্টে নেমে আসে। মাঝে কয়েকবার ওপর-নীচ করে সেটি। ফলে আতঙ্ক ছড়ায়।
এদিকে, লিফটেই এখনও তাঁর দেহ আটকে রয়েছে বলে খবর। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে টালা থানার পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যে দেহ উদ্ধারের কাজ করা হবে বলে খবর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে সেখানে অত লোক ছিল না। ফলে ওখানেই আটকে পড়েন তিনি। অনেকক্ষণ ধরে সাহায্যের জন্য ডাকাডাকি করতে থাকে পরিবার, কিন্তু কোনও ফল মেলেনি। এক ঘণ্টা মতো সেখানে আটকে থাকার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি, মৃত্যু হয় তাঁর।
পরিবারের পাশাপাশি বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আরও অনেক রোগীর পরিজনরা। তাঁদের সবার একই বক্তব্য, ট্রমা কেয়ারের মতো জরুরি জায়গায় এরকম ঘটল কীভাবে? তাছাড়া ওই বিভাগের লিফটে কোনও লিফটম্যান থাকে না, সেই নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
আরজি করে নির্যাতিতার মৃত্যুর পর থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকে সেখানে, তাও কী করে সেই ঘটনা ঘটল, সেই প্রশ্ন উঠছে বারবার। সরকারি মেডিক্যাল কলেজের পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবার।
গাফিলতি নিয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে উপস্থিত রোগীদের পরিজনদের মধ্যেও। লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরজি কর হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ''গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। লিফট যখন এসে দাঁড়ায়, তখনই দরজা খোলে। তাহলে সেটা প্যানেলে গেল কীকরে, এটা আমাদের কাছেও একটা বড় প্রশ্ন। বিস্তারিত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি আমরা। অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।''
জানা গিয়েছিল, দুর্ঘটনার পর অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম মুখ দিয়ে রক্ত বেরোতে দেখা গিয়েছিল। ফলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কী বলছে, সেই দিকেও নজর রয়েছে বলে জানিয়েছেন আরজি কর হাসপাতালের সুপার।
লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটির প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতি মাসেই রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। ফলে সেখানে কোথায় কী খামতি রয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে।