আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই মামলার শুনানি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি তোলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়। তবে এই মামলার শুনানি দীর্ঘ সময় ধরে চলবে এবং তা দ্রুত শেষ করা সম্ভব নয় বলেও মনে করছে বেঞ্চ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 March 2026 16:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) আগে ফের আরজি কর মামলায় (RG Kar Case) নতুন মোড়। মেডিক্যাল কলেজের তরুণ চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের মামলার সঙ্গে যুক্ত সব আবেদন থেকেই সরে দাঁড়াল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ (Calcutta High Court Debangshu Basak Bench)। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই বেঞ্চ আর এই মামলা শুনবে না। ফলে মামলার ভবিষ্যৎ শুনানি এখন অন্য বেঞ্চে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আদালতে এদিন বিচারপতি বসাক জানান, এই মামলাটি আগে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এই ডিভিশন বেঞ্চে পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় এই বেঞ্চ ফৌজদারি সংক্রান্ত আবেদন শুনত। সেই কারণেই মামলার শুনানির দায়িত্ব তাদের হাতে আসে।
কিন্তু বর্তমানে এই ডিভিশন বেঞ্চ আর ফৌজদারি মামলার আবেদন শুনছে না বলে আদালত স্পষ্ট করে দেয়। সেই প্রেক্ষিতেই মামলার শুনানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মত প্রকাশ করেন বিচারপতিরা।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই মামলার শুনানি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে বিষয়টি তোলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়। তবে এই মামলার শুনানি দীর্ঘ সময় ধরে চলবে এবং তা দ্রুত শেষ করা সম্ভব নয় বলেও মনে করছে বেঞ্চ।
এই কারণেই সংশ্লিষ্ট সব আবেদন থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত। বিচারপতি বসাকের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, মামলার ভবিষ্যৎ শুনানির দায়িত্ব অন্য বেঞ্চকে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই আরজি কর-কাণ্ডে (RG Kar Case) তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আরজি কর নির্যাতিতার বাবা-মা। পুলিশকর্মী অনুপ দত্তকে গ্রেফতারের (Police Arrest) দাবিতে তাঁরা শিয়ালদহ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, ঘটনার আগে তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের-সহ আরও কয়েক জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জিও ছিল তাঁদের।
আরজি কর-কাণ্ডে (RG Kar Incident) ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সাজা ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। তবু বিচার মেলেনি— এমনই অভিযোগ নির্যাতিতার বাবা-মায়ের। তাঁদের দাবি, ঘটনার পূর্ণ সত্য এখনও সামনে আসেনি। প্রৌঢ় দম্পতির কথায়, অপরাধে এক জন নয়, একাধিক ব্যক্তি জড়িত। সেই সূত্রে তাঁদের করা মামলা এখনও বিচারাধীন।
নির্যাতিতার বাবার বক্তব্য, আরজি কর-কাণ্ডের ডিএনএ রিপোর্টে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে। কিন্তু তদন্ত সেই দিক ধরে এগোয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর। তাঁর কথায়, প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়নি। নির্যাতিতার মা-ও একই দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায় একা নন, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল আরও কয়েক জন।