এক সময় যিনি নিজেকে এই দুর্নীতির ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ বলে দাবি করেছিলেন, তদন্তের অগ্রগতিতে তাঁর নামই উঠে এসেছে অভিযুক্তদের তালিকায়। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন একাধিক নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে, যেখানে আখতার আলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

আখতার আলি
শেষ আপডেট: 10 February 2026 17:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় (RG Kar Corruption Case) দীর্ঘ নাটকীয়তার পর মঙ্গলবার অবশেষে আত্মসমর্পণ করেছেন হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার (নন-মেডিক্যাল) আখতার আলি (Akhtar Ali Surrenders)। মঙ্গলবার সকালে আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে (Special CBI Court) হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তাঁকে ৭ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এক সময় যিনি নিজেকে এই দুর্নীতির ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ বলে দাবি করেছিলেন, তদন্তের অগ্রগতিতে তাঁর নামই উঠে এসেছে অভিযুক্তদের তালিকায়। সিবিআই (CBI) সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন একাধিক নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে, যেখানে আখতার আলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সেই সব তথ্যের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চার্জশিটে (CBI Chargesheet) তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করে। এর পরই তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
যদিও আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরও আখতার নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ করতে পারেননি। গত শনিবার আদালতে হাজির হলেও আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁকে ফিরে যেতে হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট সময়ের পরে বিচারকক্ষ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর তাঁর আত্মসমর্পণ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালতের তরফে নতুন দিন নির্ধারণ করা হয়।
আদালতে ঢোকার সময় আখতার আলি (Akhtar Ali) তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। সাংবাদিকদের সামনে তিনি দাবি করেন, যে আর্থিক লেনদেনকে দুর্নীতি বলে দেখানো হচ্ছে, তা আসলে তাঁর দাদার চিকিৎসার প্রয়োজনে নেওয়া ধার। তাঁর বক্তব্য, পরিকল্পিত ভাবে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন তিনি।
শনিবার আদালতে হাজির হলেও আখতারের সঙ্গে কোনও আইনজীবী ছিলেন না। এমনকি আগামভাবে আদালতকেও তাঁর উপস্থিতির কথা জানানো হয়নি। আখতার দাবি করেন, তিনি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং মোবাইল ফোন সঙ্গে না থাকায় আদালতের সময়সূচি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তাঁর কথায়, গ্রেফতার করা হলে সেটাও তিনি মেনে নেবেন।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত চলাকালীনই সামনে আসে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। সেই সময় তৎকালীন ডেপুটি সুপার হিসেবে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন আখতার আলি। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।
তবে তদন্তে নেমে সিবিআইয়ের দাবি, দুর্নীতির অভিযোগ তোলা ব্যক্তিই নিজে আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন। একাধিক বার সমন পাঠানো হলেও আখতার আদালতে হাজির হননি। আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টে, কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তার পরই গ্রেফতারি পরোয়ানার নির্দেশ দেয় সিবিআই বিশেষ আদালত।
সব মিলিয়ে, আরজি কর দুর্নীতি মামলায় হুইসেল ব্লোয়ার থেকে অভিযুক্তে পরিণত হওয়া আখতার আলির ভূমিকা এখন তদন্তের কেন্দ্রে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশে এই মামলার গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আইনজীবী ও তদন্তকারীরা।