নির্যাতিতার মায়ের কথায়, “উনি যে ধরনের তদন্ত করেছেন, তাতে এতদিন জেলে থাকার কথা ছিল ওনার। আমি কেসটা একটু এগোতে পারলেই ওনার বিরুদ্ধেও মামলা করব।”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 6 February 2026 19:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সংক্রান্ত মামলার তদন্ত নিয়ে (RG Kar case) যখন বারবার প্রশ্ন তুলছে নিহত নির্যাতিতার পরিবার (victim's mother), ঠিক সেই সময়েই পদোন্নতি পেলেন মামলার সিবিআই তদন্তকারী অফিসার (CBI investigator) সীমা পাহুজা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে পুলিশ সুপার পদে উন্নীত হলেন তিনি। বৃহস্পতিবার এই পদোন্নতির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়।
আরজি কর মামলায় তদন্তকারী অফিসার হিসেবে নিয়োগের সময় সীমা পাহুজা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে ছিলেন। বর্তমানে তিনি চণ্ডীগড়ের ‘এন্ট্রি করাপশন’ ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতির পর তাঁকে দিল্লির স্পেশ্যাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (১)-এ বদলি করা হয়েছে। তবে সিবিআই সূত্রের খবর, বদলি হলেও আরজি কর মামলার তদন্তের দায়িত্ব তাঁর হাতেই থাকছে।
আর এই পদোন্নতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিলেন নির্যাতিতার মা। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি সীমা পাহুজা ম্যাডামকে জেলে ঢুকিয়ে ছাড়ব।” তাঁর অভিযোগ, মেয়ের মামলায় সীমা পাহুজার তদন্ত ছিল সম্পূর্ণ গাফিলতিপূর্ণ। নির্যাতিতার মায়ের কথায়, “উনি যে ধরনের তদন্ত করেছেন, তাতে এতদিন জেলে থাকার কথা ছিল ওনার। আমি কেসটা একটু এগোতে পারলেই ওনার বিরুদ্ধেও মামলা করব।”
তিনি আরও দাবি করেন, সীমা পাহুজা নিজেই নাকি স্বীকার করেছেন যে তিনি সরাসরি তদন্ত করেননি। নির্যাতিতার মায়ের বক্তব্য, “উনি নিজেই বলেছেন, পুলিশ যা তদন্ত করেছে, সেটাতেই উনি শুধু সিলমোহর দিয়েছেন। তাহলে উনি এই কেস হাতে নিলেন কেন?” পাশাপাশি অভিযোগ, তদন্তকারী অফিসার কখনও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। তাঁর আরও অভিযোগ, “উনি এখানে থাকেনই না, আমাদের সঙ্গে কথা বলতেও চান না। কোনও তদন্তই করেননি।”
নির্যাতিতার মা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা যদি আসল অপরাধীদের খুঁজে বার করতে পারি, তাহলে সীমা পাহুজাকেও জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।”
প্রসঙ্গত, সিবিআই তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তদন্তের ‘গ্রে জোন’ তুলে ধরে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। নির্যাতিতার মা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যই নেননি সিবিআই তদন্তকারীরা। এমনকি তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছিলেন তাঁরা।
এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও চিঠি লিখে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তদন্তের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এমন সময় সিবিআই অফিসারের পদোন্নতি নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।