রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কি জেলমুক্তি ঘটবে?

পার্থ চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 3 September 2025 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবম দশম নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় (Recruitment Scam) আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালত (Alipore Court) থেকে জামিন (Bail) পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। সূত্রের খবর, ৭ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে নিম্ন আদালত। যদিও সিবিআই-এরই (CBI) মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) তাঁর জামিন মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে পার্থর মতোই স্বস্তি মিলেছে ইমাম মোমিন, পঙ্কজ বনসল, নীলাদ্রি দাস, আব্দুল খালেক, পর্ণা বসু, সমরজিৎ আচার্য, দিলীপ ভৌমিক, রোহিত ঝা, সুবীর ঘোষ, জুঁই দাস এবং সৌমিত্র ঘোষদের। তবে জামিনের আর্জি খারিজ হয়েছে কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় ও অশোক সাহার।
এই মামলায় জামিন পাওয়ার পাশাপাশি আগে ইডির প্রাথমিকে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় জামিন পেয়েছেন পার্থ। কিন্তু এভাবে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি-সহ একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম থাকায় জামিন হয়ে জেলমুক্তি হচ্ছে না প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর। আর এই বিষয়টি নিয়েই তাঁর আইনজীবী ক্ষুব্ধ। তাঁর যুক্তি, একই মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্য একাধিকজন ইতিমধ্যে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। শুধু তাঁর মক্কেলকেই ছাড়া হচ্ছে না।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৯ জুন কলকাত হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে মামলা রুজু হয়। এরপর ২৪ জুন ইডি (ED) তাঁকে হেফাজতে নেয়। একাধিক মামলায় পার্থ জামিন পেলেও পিএমএলএ মামলায় (PMLA Case) এখনও মুক্তি মেলেনি। অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর গ্রেফতারের পর থেকে কেবল ১৫ অক্টোবর ছাড়া আর কোনওদিনই তাঁকে হেফাজতে জেরা করা হয়নি। অথচ ওই মামলায় ইতিমধ্যেই ১২ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১১ জন জামিনে মুক্ত।
পার্থের আইনজীবীর অভিযোগ, তাঁর মক্কেলকে 'প্রভাবশালী ব্যক্তি' বলে চিহ্নিত করে জামিন আটকে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) বলেছে - আইনের চোখে সবাই সমান। আইনজীবীর যুক্তি, যদি অন্যরা জামিন পান, তবে একই শর্তে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও জামিন দেওয়া উচিত।
তাঁর আরও বক্তব্য, ইডির মামলা আসলে একটিমাত্র নথিকে কেন্দ্র করে, যেটি নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে। অথচ এতদিনে সেই মামলায় তদন্তের অগ্রগতি নেই। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তবে জিজ্ঞাসাবাদও করতে হবে। শুধু হেফাজতে রেখে দেওয়া মানে ইচ্ছে করে শাস্তি দেওয়া।”
এই আবহে নবম দশম দুর্নীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন পাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ।