ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ক্ষুব্ধ শহরবাসী। তাঁদের প্রশ্ন, "রবিবার সকালেও তো মহড়া করা যেত! তখন শহর ফাঁকা থাকে। অফিস নেই, স্কুল নেই। তাহলে কাজের দিনে, তাও অফিস টাইমে কেন?"

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 11 August 2025 13:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন, সোমবার। আর সেই দিনই শহরের প্রাণকেন্দ্র রেড রোডে (Red Road) স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজের মহড়া (Parade Rehearsal)। সকাল ৮টা থেকে বন্ধ রেড রোড, কার্যত স্তব্ধ ধর্মতলার আশপাশের অঞ্চল। অফিস টাইমে (Office Hours) রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির (Traffic Jams) শিকার হন অফিসযাত্রীরা। প্রশ্ন উঠছে, এই দিনটাই কি মহড়ার জন্য সবচেয়ে ‘উপযুক্ত’ ছিল?
সোমবার সকালেই দেখা গেল, রেড রোডে কুচকাওয়াজের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। উপস্থিত পুলিশ কমিশনার-সহ উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তারা। মহড়া শুরু হয় সকাল ১০টা নাগাদ, কিন্তু রেড রোড বন্ধ করে দেওয়া হয় সকাল ৮টা থেকে। ফলে, যাঁরা অফিসের জন্য বেরিয়েছিলেন, তাঁদের পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে।
বিশেষ করে ধর্মতলা, এজিসি বোস রোড, হেস্টিংস, কিংবা পার্ক সার্কাস হয়ে যাঁরা দ্বিতীয় হুগলি সেতু ব্যবহার করেন, তাঁদের আজ গন্তব্যে পৌঁছতে দ্বিগুণ সময় লেগেছে। কেউ ঘুরপথে, কেউ নিকাশি বন্ধ রাস্তায় দাঁড়িয়ে, কেউ বা গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই অফিসমুখো হয়েছেন।
ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ক্ষুব্ধ শহরবাসী। তাঁদের প্রশ্ন, "রবিবার সকালেও তো মহড়া করা যেত! তখন শহর ফাঁকা থাকে। অফিস নেই, স্কুল নেই। তাহলে কাজের দিনে, তাও অফিস টাইমে কেন?"
এক অফিসযাত্রী বলেন, “কথা ছিল মহড়া শুরু হবে সকাল ৮টায়। কিন্তু শুরুই হল ১০টায়! ততক্ষণে যানজট চরমে পৌঁছেছে। কাজের দিন রাস্তাঘাট বন্ধ করে এমন আয়োজন করলে সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ হয়, সেটা প্রশাসন বুঝছে না?”
রেড রোড বন্ধ থাকায় দ্বিতীয় হুগলি সেতু থেকেও নামা বন্ধ। ফলে সেতুর উপরেই দেখা যায় দীর্ঘ গাড়ির লাইন। যারা ধর্মতলার দিকে নামছিল, তাদের গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। অনেকেই হাওড়া দিয়ে ঘুরে শহরে ঢোকার চেষ্টা করেন, কিন্তু সেখানেও বেহাল ট্রাফিক ব্যবস্থা।
এ ব্যাপারে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট বক্তব্য না মিললেও, শহরবাসীর একাংশ বলছে,
"প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে যেমন সকাল ৫টা থেকেই মহড়া সেরে নেওয়া হয়, এখানেও তেমনই করা যেত। অফিস টাইমে কেন?"
শহরবাসীর মতে, স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি, কুচকাওয়াজ, সবই আবেগের জায়গা। কিন্তু তার জন্য নিত্যযাত্রীদের হয়রানি মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের উদ্দেশে তাঁদের অনুরোধ, আগামী দিনগুলোতে পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত হোক। কারণ, উৎসবের আনন্দ যেন নাগরিক ভোগান্তির ছায়ায় ঢাকা না পড়ে।