তদন্তে উঠে এসেছে, সম্প্রতি পর্যটনের ব্যবসার জন্য পার্কস্ট্রিট এলাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন শান্তা। ওই ব্যক্তির অভিযোগেই ফাঁস হয় তাঁর পরিচয়ের ভুয়ো নথির বিষয়টি।

শান্তা পাল
শেষ আপডেট: 5 August 2025 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুয়ো পরিচয়পত্র (Fake IDs) বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে তথা কলকাতায় (Kolkata) বাস করছিলেন বাংলাদেশি মডেল (Bangladeshi Model) শান্তা পাল। তাঁকে গ্রেফতার করার পর এবার পুলিশ সেই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল যার সাহায্য ভুয়ো সব নথি বানিয়েছিলেন তিনি। সৌমিক দত্ত নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, যিনি নৈহাটির বাসিন্দা (Naihati)।
কলকাতায় শান্তা যে বাড়িতে থাকছিলেন সেখান থেকে একাধিক ভুয়ো আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড এবং ভারতীয় পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে (Fake IDs)। এর পাশাপাশি মিলেছে শান্তার নামে ইস্যু করা একাধিক বাংলাদেশি পাসপোর্টও। সেই সময়ই অনুমান করা হয়েছিল, কারও সাহায্য এত জাল নথি তৈরি করেছেন তিনি কারণ একা এতকিছু করা সম্ভব নয়। এরপরই পুলিশের জালে ধরা পড়ল নৈহাটির ওই বছর ৩৫-এর যুবক।
তদন্তে উঠে এসেছে, সম্প্রতি পর্যটনের ব্যবসার জন্য পার্কস্ট্রিট এলাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন শান্তা। ওই ব্যক্তির অভিযোগেই ফাঁস হয় তাঁর পরিচয়ের ভুয়ো নথির বিষয়টি। জানা যায়, শান্তা বাংলাদেশের পাসপোর্টে ভারতে এসে ভুয়ো আধার ও ভোটার কার্ড বানিয়ে নাগরিক পরিচয় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, শান্তার ভিসার মেয়াদ গত জুলাইতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি শহরে কীভাবে থাকছিলেন তা নিয়েই শুরু হয় তদন্ত। জেরা করতে গিয়ে শান্তা দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ তাঁর কাছে ‘শান্তিপূর্ণ’, তাই এখানেই থেকে যেতে ভালো লাগে। নিজেকে বিবাহিত বলেও দাবি করেন তিনি, যদিও সে তথ্য যাচাই করে দেখছে পুলিশ।
তদন্তে এও উঠে এসেছে, শান্তা একটি গেস্ট হাউস বানানোর জন্য ঋণও নিয়েছিলেন, যদিও তা নিজের নামে নয়। তাঁর কলকাতার ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি আধার কার্ড যার একই নম্বর হলেও একটি কলকাতা ও অন্যটি বর্ধমানের ঠিকানায় রয়েছে। পাওয়া গেছে বর্ধমানের ঠিকানায় শান্তার নামের একটি ভোটার কার্ডও। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে তিনি আদৌ বর্ধমানে থেকেছেন কি না, বা সেখান থেকে কেন কলকাতায় এলেন।
জানা গেছে, শান্তার বাড়ি বাংলাদেশের বরিশালে। ২০১৯ সালে এক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। পরে বাংলাদেশি মডেলিং সংস্থা এবং সিনেমায় কাজ করার পর ভারতে আসেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে তিনি কলকাতার বিক্রমগড় এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে ছিলেন।
এখন এই ঘটনায় সৌমিক দত্ত নামের ওই যুবক কীভাবে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন, কত দিনের পরিচয়, নথি বানাতে কোনও চক্র জড়িত কিনা, তা নিয়েও চলছে জোর তদন্ত।