ঘটনা ৪বি, আশুতোষ মুখার্জি রোডের। সেখানকার বাসিন্দা অনুপমা চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, কালীপুজোর দিন রাত দেড়টা নাগাদ এলাকার কিছু যুবক লাগাতার বাজি ফাটাচ্ছিল।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 23 October 2025 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীপুজোর (Kali Puja) রাতে মধ্যরাতের বাজির তাণ্ডবে (Fire Crackers) থমথমে ভবানীপুর (Bhawanipore)। অসুস্থ এক বৃদ্ধা প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন। অভিযুক্ত এলাকারই পাঁচ যুবক। ঘটনার তদন্তে নেমেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ (Bhawanipore PS)।
ঘটনা ৪বি, আশুতোষ মুখার্জি রোডের। সেখানকার বাসিন্দা অনুপমা চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, কালীপুজোর দিন রাত দেড়টা নাগাদ এলাকার কিছু যুবক লাগাতার বাজি ফাটাচ্ছিল। তাঁর কথায়, “হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘর ভর্তি ধোঁয়া, শ্বাস নিতে পারছিলাম না। নীচে নেমে অনুরোধ করতেই ওরা উল্টে আমাকে ধরে মারধর করে।” বৃদ্ধার দাবি, সেই সময় তাঁর ভাইও আক্রান্ত হন।
অনুপমা দেবীর আরও অভিযোগ, বাজি থেকে আগুনও ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের বাড়ির একাংশে। আতঙ্কিত অবস্থায় তিনি প্রথমে ২১ অক্টোবর রাতেই থানায় অভিযোগ জানাতে যান, কিন্তু সেই অভিযোগ নাকি নেওয়া হয়নি। পরে বৃহস্পতিবার ফের আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গেলে এফআইআর দায়ের হয় পাঁচজনের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে ওই বৃদ্ধা চরম মানসিক চাপে রয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, অভিযুক্ত যুবকেরা ফের হামলা চালাতে পারে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
কালীপুজোর রাতে শুধু কলকাতাই নয়, রাজ্যের একাধিক জায়গায় বাজি ফাটানো নিয়ে নালিশ উঠেছে। এমনকি কোচবিহারেও একই ছবি— সেখানে মাঝরাতে বাজি ফাটানো বন্ধ করতে গিয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছিল জেলা পুলিশ সুপারকে।
কালীপুজোর দিনই বরানগরের বনহুগলি লেক পাড় এলাকায় রাতভর বাজির তাণ্ডব চলে! এমনকী বাজিতে ডাস্টবিন লাগোয়া একটি এলাকায় আগুনও ধরে যায়। আর এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত হতে হয় এক বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধাকে। সেই ঘটনায় পাঁচ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছ পুলিশ।
শুধু কলকাতা নয়, সল্টলেক, হাওড়ায় বাজির তাণ্ডব থামার নাম ছিল না কালীপুজোয়। পুলিশের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও, দিকে দিকে বাজি ফাটানো হয় অবিরাম। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ, পশুপাখি। বনগাঁ লাইনে ট্রেনের কামরায় চকোলেট বোমও ছুড়ে মারা হয়।
রাতের নির্ধারিত শব্দমানকে বহু জায়গায় ছাড়িয়ে যায় আবাসিক এলাকা। সাধারণত রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আবাসিক এলাকায় শব্দ ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে রাখা উচিত, আর ‘সাইলেন্স জোন’-এ তা ৪০ ডেসিবেল। কিন্তু কালীপুজোর রাতে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে এই মাত্রা ৮০ ডেসিবেলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।