শুভেন্দুর মতে, “যে সরকার অগ্নি নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করতে পারে না, বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে পারে না এবং দুর্যোগের সময়ে সংবেদনশীল ভাবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনও নৈতিক অধিকার নেই।”
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 27 January 2026 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (Anandapur Fire Incident) ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা ৪২ ঘণ্টা পেরিয়েও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই সামনে আসছে একের পর এক অব্যবস্থার ছবি। অগ্নি নির্বাপণের ন্যূনতম পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থে ঠাসা ছিল গোডাউন। নিয়মিত ফায়ার অডিট হয়নি বলেই প্রাথমিক ভাবে দাবি। এমনকি স্থানীয়দের অভিযোগ, মোমো কারখানার আড়ালে চলছিল অবৈধ কোল্ড ড্রিঙ্কস উৎপাদন। জলাশয় বুজিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল গোডাউন—এই অভিযোগও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি এবং চরম গাফিলতির ছবিই ফুটে উঠছে।
এই আবহেই আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডকে ‘ম্যান মেড ট্রাজেডি’ বলে আখ্যা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়। এটা এই সরকারের গাফিলতির ফল।” তাঁর অভিযোগ, পূর্ব কলকাতার জলাভূমির চরিত্র বদলে দেওয়া হচ্ছে অবাধে। বেআইনি নির্মাণ রুখতে ব্যর্থ সরকার। রাজ্যে কার্যত ‘নো গভর্নমেন্ট’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে (No government situation in the West Bengal)।
শুভেন্দুর মতে, “যে সরকার অগ্নি নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করতে পারে না, বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে পারে না এবং দুর্যোগের সময়ে সংবেদনশীল ভাবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনও নৈতিক অধিকার নেই।”
I express my Deepest Condolences and Heartfelt Sorrow to the families of the innocent workers who lost their lives (8 reported till now with the grim possibility of the number going up). More than 20 are reportedly missing in the horrific fire tragedy at Anandapur, with many yet… pic.twitter.com/NtjBdU8XLB
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) January 27, 2026
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২০ জনেরও বেশি। মৃত ও নিখোঁজদের অনেকের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন তরুণ এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁদের বড় অংশ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, “দাহ্য পদার্থে ভর্তি তালাবদ্ধ গুদামের ভিতরে শ্রমিকদের আটকে রাখা হয়েছিল। কোনও জরুরি বেরনোর পথ ছিল না। সংকীর্ণ গলির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—কলকাতার উপকণ্ঠে এত বিপজ্জনক গুদামে কীভাবে মানুষকে রাত কাটাতে বাধ্য করা হল, অথচ প্রশাসনের কেউ কিছু জানল না?”
দমকলমন্ত্রীকে নিশানা করে শুভেন্দু আরও বলেন, “৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলমন্ত্রী। অথচ তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন মানুষ গুদামের ভিতরে ছিল। প্রশ্ন তোলার বদলে প্রশাসনের উচিত ছিল তার উত্তর দেওয়া।” তাঁর দাবি, এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উদাসীনতা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার।
শুভেন্দুর পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীও। তাঁর প্রশ্ন—পরপর এত অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটছে? গত কয়েক বছরে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক অগ্নিকাণ্ড হলেও কোনও ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সত্য সামনে আসেনি বলেও অভিযোগ তাঁর।
শেষ পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আনন্দপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনটি দেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে স্থানীয় ও অসমর্থিত সূত্রের দাবি, মৃতের সংখ্যা আট পর্যন্ত হতে পারে। নিখোঁজ অন্তত ১৭ জন। ধ্বংসস্তূপের ভিতরে এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই আশঙ্কা বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে।