বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
.jpeg.webp)
আখতার আলি।
শেষ আপডেট: 16 December 2025 16:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG kar corruption case) আর্থিক দুর্নীতি মামলায় ফের চাঞ্চল্য। আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court ) দ্বারস্থ হলেন ওই হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রথম আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন এই আখতার আলিই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অভিযোগকারীর নামই জড়িয়ে পড়ল দুর্নীতির মামলায়।
সম্প্রতি আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সেই চার্জশিটেই নাম রয়েছে আখতার আলির। শুধু তাঁর একার নয়, শশীকান্ত চন্দক নামের আরও এক জনের নামও যুক্ত হয়েছে ওই চার্জশিটে। এর আগে এই মামলায় সন্দীপ ঘোষ, বিপ্লব সিংহ, সুমন হাজরা, আফসার আলি খান ও আশিস পাণ্ডের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করেছিল সিবিআই।
সূত্রের খবর, চার্জশিটে নাম থাকা সকলের বিরুদ্ধেই আইপিসির ৪৭১ ধারা যুক্ত করার আবেদন জানিয়েছে সিবিআই। অভিযোগ, নথি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন অভিযুক্তরা। চার্জশিটে আইপিসির ১২০বি, ৪২০, ৪০৯, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইনের ৭ ও ১৩ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রায় এক দশক ধরেই আরজি করের আর্থিক অনিয়ম চলছিল।
এই মামলায় নাম জড়ানোর পরেই আইনি পথে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আখতার। শেষ পর্যন্ত আগাম জামিন চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলেন তিনি।
২০২৩ সালে রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন আখতার। অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে আরজি কর থেকে বদলি করে পাঠানো হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে কিছু দিন ডেপুটি সুপার (নন-মেডিক্যাল) হিসেবে কাজ করার পর চলতি বছরের এপ্রিলে তাঁকে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ হাসপাতালে ডেপুটি সুপার হিসেবে পাঠানো হয়।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি তিনি ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য দফতরে চিঠি দিলেও সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়নি। বরং কয়েক দিন আগেই তাঁকে সাসপেন্ড করে স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, নির্দিষ্ট একটি সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে লক্ষাধিক টাকা দাবি করেছিলেন আখতার। শুধু তা-ই নয়, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্টে দু’লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা জমা পড়ে। পাশাপাশি, নিজের ও পরিবারের বিমানযাত্রার ক্ষেত্রেও সুবিধা নিয়েছিলেন তিনি, এমন তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি প্রশাসনের।
এই সমস্ত অভিযোগের মাঝেই হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করায় আরজি কর দুর্নীতি মামলায় যে নতুন করে উত্তাপ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।