ডা. আখতার আলি আগে ছিলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ডেপুটি সুপার। সেখানেই তিনি প্রকাশ্যে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।

আখতার আলি
শেষ আপডেট: 5 November 2025 16:02
আরজি কর হাসপাতালের দুর্নীতি (RG Kar Corruption) নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। সেই আখতার আলি (Akhtar Ali) এবার সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা (Resign) দিলেন। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার (Kaliyagunj Hospital Deputy Super) পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। সোমবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে।
ডা. আখতার আলি আগে ছিলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ডেপুটি সুপার। সেখানেই তিনি প্রকাশ্যে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের প্রশাসনিক স্তরে আর্থিক অনিয়ম এবং ভুয়ো বিল তৈরির ঘটনা ঘটছিল। সেই অভিযোগের পর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। এই ঘটনায় তিনি সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের দিকে।
আখতার আলির দাবি, দুর্নীতি নিয়ে মুখ খোলার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি প্রতিহিংসা শুরু হয়। একের পর এক বদলির নির্দেশ জারি হয় তাঁর নামে। অবশেষে তিনি সরকারি চাকরি থেকেই ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ইস্তফাপত্রে তিনি দ্য ওয়াল-কে (The Wall) জানিয়েছেন, “সিস্টেমের মধ্যে থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে পারছি না। এরা কেউ আমাকে লড়তে দেবে না। তাই আমি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার দুটি নীতি - স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং পড়ুয়াদের ওপর যে অত্যাচার তার বিরুদ্ধে সরব হওয়া। সেই লড়াই আমি চালিয়ে যাব।'' তিনি এও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
আখতার আলি সম্প্রতি বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। দেখা গেল, সেই সাক্ষাতের কদিনের মধ্যে তিনি সরকারি পদ ছাড়লেন। তাহলে কি এটা কোনও রাজনৈতিক বার্তা? এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দ্য ওয়ালকে স্পষ্ট বলেন, ''আমি অনলাইন মেম্বার হয়েছি এটা আমার মৌলিক অধিকার। সাক্ষাৎ করাটাও। পুজোর পর ওঁর সঙ্গে দেখা করতে গেছিলাম কারণ ওঁর কিছু বক্তব্য আমার ভাল লেগেছিল।''
তবে এই ক্ষেত্রে বিরাট ইঙ্গিতও তিনি দিয়েছেন। আখতার আলি বলেছেন, তাঁর কাছে এখনও রাজনৈতিক দলে যোগদানের কোনও প্রস্তাব নেই। ভবিষ্যতে কোনও প্রস্তাব তিনি পেলে রাজনীতিতে আসবেন।কিন্তু কেন বিজেপি? আখতার আলির ব্যাখ্যা, ''তৃণমূলের নীতি আমরা ভাল লাগেনি। ওখানে ভর্তি দুর্নীতি রয়েছে। কেউ ক্লিন নন। সেই প্রেক্ষিতে মনে হয়েছে, বাংলায় বিজেপি ভাল দল।''
সরকারি চাকরি ছাড়লেও বেসরকারি হাসপাতালে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি বলে জানান আখতার। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে সিভি-ও দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে চাকরিতে যোগ দেন আখতার আলি। তাঁর চাকরির মেয়াদ ছিল ২০৩৭ পর্যন্ত। কালিয়াগঞ্জের আগে তিনি ছিলেন মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে। আরজি কর হাসপাতালের দুর্নীতির অভিযোগ করার পর ('মার্চ,২০২৩) তাঁকে প্রথমে হেলথ রিক্রুমেন্ট বোর্ডে সরিয়ে দেওয়া হয়, সেখান থেকে পাঠানো হয় মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে।
তবে ডা. আখতার আলির অভিযোগ ও পদত্যাগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে এই ইস্তফা গৃহীত হয়েছে কি না, তা নিয়েও এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।