তিনিই প্রথম দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন আরজি করের (RG Kar Hospital) প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের (Sandip Ghosh) বিরুদ্ধে। সেই কারণে নাকি বদলিও হতে হয়েছিল।

শমীকের দরবারে আখতার আলি। ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 9 October 2025 22:23
তিনিই প্রথম দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন আরজি করের (RG Kar Hospital) প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের (Sandip Ghosh) বিরুদ্ধে। সেই কারণে নাকি বদলিও হতে হয়েছিল। পরে আরজি করে মহিলা চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে রাজ্য জুড়ে শোরগোলে সেই সব দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। শুরু হয় তদন্তও। সেই প্রতিবাদী চিকিৎসক আখতার আলি (Dr. Akhter Ali) হঠাৎ রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (Election)। তার আগে এই চিকিৎসকের দেখা করা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বৈকি। কিন্তু কথা হচ্ছে, বলা নেই কওয়া নেই লক্ষ্মীবারে আচমকা শমীকের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কারণ কী? নির্বাচনের টিকিট?
রাখঢাক না রেখে দ্য ওয়ালকে আখতার জানালেন, "আমি দুর্নীতি নিয়ে লড়ছি। যে কারণে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হ্যাকেল করা হচ্ছে। এবার ওঁদের কিছু পলেসি, ওঁর (পড়ুন শমীক) কথাবার্তা আমার ভাল লেগেছে। আমি যেহেতু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সে কারণে আমি এই ইস্যু ধরেই বলছি...। উনি বলেছেন এত খুন-খারাপি, অপরাধ বেড়ে গেছে তার কারণ রাজ্যে চাকরি নেই। সরকার চাকরি দিতে পারছে না। হাতে বই-খাতা ধরাতে পারছে না। বাধ্য করা হচ্ছে সরকারের গোলাম হতে। এই ইস্যুটা ধরেই শমীকবাবু চাইছেন তাঁদের একটা ভাল জীবনযাপন দিতে। এখান থেকে আইপিএস, আইএএস, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করে বাঁচার অধিকার দিতে।"
প্রতিবাদী চিকিৎসকের কথায়, "আমি শমীকবাবুর কথা শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছি। পাশাপাশি নিজে সংখ্যালঘু বলে যা যা মনে হয়েছে বলা প্রয়োজন, সেসবও জানিয়েছি। একেবারেই ব্যক্তিগত জায়গা থেকে দেখা করতে এসেছি।"
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন ওই হাসপাতালেরই তৎকালীন ডেপুটি সুপার আখতার। ২০২৩ সালে সেই অভিযোগ করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলাও তাঁর মুখে দুর্নীতির প্রসঙ্গ। তবে সন্দীপকে নিয়ে নয়, বরং চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূলকে। বলেন, "একজন নেতাও আছে তৃণমূলের, যে দুর্নীতিমুক্ত? কোনও নিট অ্যান্ড ক্লিন লোক নেই। আমি দুর্নীতি নিয়ে আগেও লড়ছিলাম। এখনও লড়ছি। ভবিষ্যতেও লড়ব।"
তবে কি আখতার নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির দর্পণে নিজেকে দাঁড় করিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পদ্মশিবিরের হয়ে লড়তে চলেছেন? চিকিৎসক নিজেই খোলসা করে বললেন, "সেটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এখনও আমি চাকরি করি। চাকরি থেকে যখন বেরিয়ে আসব নিশ্চয়ই আমার কিছু পরিকল্পনা থাকবে।" উল্টোদিকে শমীক কী বললেন প্রতিবাদী চিকিৎসককে? আখতার জানালেন, একজন নাগরিক হিসেবে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম, আমার কিছু কথা বলেছি। যেহেতু তিনি আজ একটু কাজের মধ্যে রয়েছেন, তাই পরে বাকি কথা বলবেন।
আরজি করের ডেপুটি সুপারের দায়িত্ব সামলে পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ডেপুটি সুপার (নন-মেডিক্যাল) পদে ছিলেন আখতার। তাঁকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই পাঠানো হয় উত্তর দিনাজপুরে। এখন সেখানে তিনি কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ডেপুটি সুপার (নন-মেডিক্যাল) হিসেবে কর্মরত। এর পর কী? আখতার আলির গেরুয়া শিবিরে যোগদান কি তবে সময়ের অপেক্ষা। উত্তর দেবে সময়ই।