এই পরস্পর বিরোধী বার্তাই ফের সামনে এনে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপির বহুদিনের পরিচিত অসংগঠিত চেহারা। শুভেন্দু-দিলীপ, দিলীপ-সুকান্ত, সুকান্ত-শমীক—নানা সময়েই একে অপরের বিপরীত সুরে কথা বলেছেন নেতারা।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 9 October 2025 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্রাণ দিতে গিয়ে গত সোমবার নাগরাকাটায় আক্রান্ত হয়েছেন খোদ সাংসদ, বিধায়ক। তার জবাবে রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumder) হুঁশিয়ারি, "পাল্টা মার হবে"। কিন্তু রাত পেরোতে না পেরোতেই ভিন্ন সুরে রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhatatachariya)। সাফ জানিয়ে দিলেন, "ওটা তো জঙ্গলের আইন, আমাদের সংস্কৃতি নয়।"
এই বিপরীত অবস্থান প্রকাশ্যে আসতেই ফের প্রশ্নের মুখে গেরুয়া শিবিরের অন্তর্দলীয় সমন্বয়।
সোমবার নাগরাকাটায় ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে আক্রান্ত হন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। এরপর বুধবার এলাকায় গিয়ে কড়া বার্তা দেন সুকান্ত, বলেন, “পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে বিজেপি পাল্টা মার দেবে। গ্রেফতার না করলে আমরাও রাস্তায় নামব।”
এই মন্তব্যে দলের একাংশ যখন চাঙ্গা, তখনই বৃহস্পতিবার সকালে একেবারে ভিন্ন সুরে শমীক। তাঁর মন্তব্য, “চোখের বদলে চোখ, কানের বদলে কান—এসব জঙ্গলের রাজত্বে হয়। বিজেপি সেই সংস্কৃতির দল নয়। মানুষ আমাদের তিন বার কেন্দ্রে এনেছে, মানুষের উপরই আমাদের ভরসা।”
সাফ বার্তা, রাজনীতিতে প্রতিশোধের নামে হিংসার জায়গা নেই—কমপক্ষে বিজেপির পক্ষে নয়।
এই পরস্পর বিরোধী বার্তাই ফের সামনে এনে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপির বহুদিনের পরিচিত অসংগঠিত চেহারা। শুভেন্দু-দিলীপ, দিলীপ-সুকান্ত, সুকান্ত-শমীক—নানা সময়েই একে অপরের বিপরীত সুরে কথা বলেছেন নেতারা।
এই অবস্থান নির্বাচনী বছরে ঠিক কী বার্তা দিচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তিত রাজনৈতিক মহলও। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিচ্ছে যে দল, তাদের অন্দরেই যখন মতের এহেন ফারাক, তখন প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে সত্যিই কি প্রস্তুত গেরুয়া শিবির?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংগঠনিক সমন্বয় না থাকলে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে।