“নতুন যিনি আসছেন, তিনি বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার। জেনে রাখুন, বাংলা কিন্তু অন্য জায়গা।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিভি আনন্দ বোস
শেষ আপডেট: 7 March 2026 13:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল বদল নিয়ে এবার সরাসরি সংঘাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সি ভি আনন্দ বোসের (CV Anand Bose) আকস্মিক ইস্তফা এবং তাঁর জায়গায় আর এন রবির (R N Ravi) নিয়োগকে কেন্দ্র করে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে কার্যত ‘যুদ্ধং দেহি’ তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, আনন্দ বোসকে ‘ভয় দেখিয়ে’ সরানো হয়েছে এবং লোকভবনকে এবার ‘বিজেপির দলীয় অফিস’ বানানোর নীলিনকশা তৈরি করেছে কেন্দ্র।
‘রাজভবন কি এবার টাকা বিলোনোর জায়গা?’
এদিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন রাজ্যপালের বিদায় নিয়ে। তাঁর দাবি, “আনন্দবাবুকে কেন সরানো হল, আমি সব জানি। তাঁকে থ্রেট (হুমকি) করা হয়েছে। সবাই তো আর রাজভবনকে দলীয় অফিস বানাতে চায় না।” নতুন রাজ্যপাল আর এন রবিকে বিঁধে মমতা বলেন, “নতুন যিনি আসছেন, তিনি বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার। জেনে রাখুন, বাংলা কিন্তু অন্য জায়গা।” তামিলনাড়ুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, সেখানেও মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনকে একইভাবে ব্যতিব্যস্ত হতে হয়েছে।
কে এই আর এন রবি?
বাংলার নতুন রাজ্যপাল হিসেবে যাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, সেই আর এন রবির জীবনপঞ্জি বেশ বর্ণময়। পাটনায় জন্ম নেওয়া রবি ১৯৭৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার। গোয়েন্দা বিভাগ (আইবি) এবং সিবিআই-তে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। নাগাল্যান্ডের বিচ্ছিন্নতাবাদী সমস্যা সমাধানে তাঁর ভূমিকা কেন্দ্রের কাছে ‘ফুল মার্কস’ পেয়েছে। ২০১৮ সালে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের ডেপুটি হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তবে নাগাল্যান্ড ও তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন অবিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে তাঁর সংঘাত বারবার খবরের শিরোনামে এসেছে।
ভোটমুখী বাংলায় এমন একজন ‘কড়া’ মেজাজের প্রাক্তন পুলিশকর্তাকে লোকভবনে বসানো যে নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, তা আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, ধনকড় জমানার সেই চেনা সংঘাতের আবহ আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে দিল্লি।
বস্তুত, সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফার দিনই উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। সেখানে রাজ্যপাল নিয়োগের বিষয়ে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অভিযোগ করেন, এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত ভারতের সংবিধানের ভাবনাকে দুর্বল করে এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত হানে। কেন্দ্রের উচিত সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর নীতি মেনে চলা এবং এমন সিদ্ধান্ত না নেওয়া, যা গণতান্ত্রিক প্রথা ও রাজ্যের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।