সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটিতে (SNU) শুরু হল চতুর্থ ন্যাশনাল মিডিয়া কনক্লেভ (Media Conclave)। তিন দিনে শতাধিক গবেষণাপত্র, আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশগ্রহণ, প্রথিতযশা অতিথি ও বৈচিত্র্যময় আলোচনা ঘিরে জমকালো আয়োজন।

শেষ আপডেট: 18 September 2025 19:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি (SNU)-র সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে আজ, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে চতুর্থ ন্যাশনাল মিডিয়া কনক্লেভ, ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতীক্ষিত মিডিয়া স্টাডিজ-ভিত্তিক অ্যাকাডেমিক সম্মেলন। তিন দিন ধরে চলা এই কনক্লেভে শতাধিক গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও আলোচনা হবে, যা পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় মিডিয়া-কেন্দ্রিক একাডেমিক মঞ্চ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। এই বছরের মূল থিম: “Representing the Unseen: India at the Margins and Media”। অর্থাৎ, ভারতীয় সমাজের প্রান্তিক মানুষ, অবহেলিত সংস্কৃতি, সাহিত্য ও শিল্পের নীরব কণ্ঠস্বর কিংবা চাপা পড়ে থাকা সামাজিক মূল্যবোধ—সবকিছুকেই এখানে আলোচনার কেন্দ্রে আনা হচ্ছে।
কনক্লেভের মান বাড়িয়েছে দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশগ্রহণ, International Association for Media and Communication Research (IAMCR)-এর Gender and Communication Wing এবং International Communication Association (ICA)। এর ফলে এই আলোচনাগুলো কেবল ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বৈশ্বিক পরিসরেও প্রতিধ্বনিত হবে। উদ্বোধনী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন SNU-র উপাচার্য অধ্যাপক ড. শঙ্কু বসু, প্রো-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন AIU-এর অতিরিক্ত সচিব মমতা রানি আগরওয়াল, এনডিটিভি-র কনসালটিং এডিটর জয়ন্ত ঘোষাল, ইন্ডিয়া হ্যাবিট্যাট সেন্টারের ডিরেক্টর অধ্যাপক কে.জি. সুরেশ, প্রাক্তন আইপিএস ঋষিরাজ সিং, প্রেস ক্লাব কলকাতার সভাপতি ড. স্নেহাশিস সুর এবং আরও অনেকে।
কনক্লেভের সভাপতি ও SNU-র ডিন (School of Media Communication, Fine Arts, Design, and Drama) ড. মিনাল পারেখ বলেন, “এটি শুধু গবেষণাপত্র উপস্থাপনের মঞ্চ নয়। এখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি দেখতে পাচ্ছেন উচ্চমানের বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা ও সমালোচনা। এটি সামাজিকভাবে প্রাসঙ্গিক এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্ষমতায়নের একটি মঞ্চ।”কনভেনার অধ্যাপক অরিন্দম বসু স্মরণ করিয়ে দেন, চার বছর আগে মাত্র ৪০টি গবেষণাপত্র দিয়ে এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ এটি ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মিডিয়া স্টাডিজ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায়, “এখানে পড়ানোর উৎকর্ষ মিশে যাচ্ছে সমসাময়িক মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির সঙ্গে, যা আগামী দিনের সমাজে মিডিয়ার ভূমিকা নির্ধারণ করবে।” প্রথম দিনের প্লেনারি সেশনের নাম ছিল “Unrepresented India: Lives on the Margins through Various Mass Media”। বক্তারা সেখানে তুলে ধরেন স্টিরিওটাইপিং, পোস্ট-প্রোডাকশন এস্থেটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মিডিয়া ইম্পেরিয়ালিজম, টেলিভিশন ও বিজ্ঞাপনে লিঙ্গ উপস্থাপনের মতো বিষয়।
দ্বিতীয় দিনের সেশনগুলো ঘুরবে “What Communication Truly Includes the Marginalised in Mainstream Discussions?”-এর মতো প্রাসঙ্গিক আলোচনার চারপাশে। থাকছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৈষম্য, প্রতিবন্ধকতা ও ক্ষমতায়ন, ডালিত নারীর প্রান্তিকীকরণ ইত্যাদি। একই দিন আরেকটি সেশনে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে আদিবাসী জীবনের স্টিরিওটাইপ নিয়ে আলোচনা হবে।শেষ দিনে আলোচ্য বিষয়: “The Reality of Being Marginalised”। এখানে স্থান পাবে ভারতের আদিবাসী কণ্ঠস্বরের সংগ্রাম, লোককথার প্রতিবাদ, সিনেমায় লিঙ্গ বৈষম্য, অ্যালগরিদমিক সেন্সরশিপ প্রভৃতি। একই সঙ্গে ICA ও IAMCR-এর বিশেষ সেশন যোগ করবে আন্তর্জাতিক মাত্রা।
২০ সেপ্টেম্বর সমাপনী অনুষ্ঠানে মূল বক্তা থাকবেন দূরদর্শনের সম্পাদক ও অ্যাঙ্কর অশোক শ্রীবাস্তব এবং সুরেন্দ্রনাথ কলেজের জেএমসি প্রধান ড. উমাশঙ্কর পাণ্ডে। এরপর প্রদর্শিত হবে সচিন ধীরজের পরিচালিত তথ্যচিত্র ‘Testimony of Ana’। সঙ্গে থাকছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
কনক্লেভে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার এথিকসকে সামনে এনেছে CyberPeace, আর Grooving Kolkata যুক্ত করেছে সংস্কৃতি ও তরুণদের কুলিনারি অভিব্যক্তি। Shopper’s Stop দিয়েছে জেন-জেড ট্রেন্ড অনুযায়ী সেলফি-বুথ। সব মিলিয়ে এই কনক্লেভ প্রমাণ করছে, একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ঘটিয়ে কীভাবে নতুন প্রজন্মকে প্রভাবিত করা যায়। সব মিলিয়ে, এই কনক্লেভ শুধু আলোচনা নয়, বরং ভারতের মিডিয়া প্র্যাকটিসের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার এক রূপরেখা।