বিচারকের সামনে ইডির বক্তব্য, “আমরা ‘সুপার হিউম্যান’ নই। তদন্তে সময় লাগবেই।” তাই এই মুহূর্তে জামিন দিলে, প্রভাব খাটিয়ে প্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা থেকেই যায়।
.jpeg.webp)
জীবনকৃষ্ণ সাহা।
শেষ আপডেট: 18 September 2025 19:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Corruption Case) গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার (Jibankrishna Saha) জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল আদালত।
বৃহস্পতিবার কলকাতার বিচারভবনে শুনানি ছিল এই মামলার। একদিকে যখন জীবনের আইনজীবী জোরালোভাবে দাবি করছিলেন তাঁর মক্কেল নির্দোষ, অন্যদিকে ইডি আইনজীবীদের পাল্টা যুক্তি, জীবন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
ইডি-র দাবি, শুধু জীবন নয়, তাঁর স্ত্রী এবং শ্বশুরও এই আর্থিক কারচুপির নেপথ্যে পরোক্ষভাবে জড়িত। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিচারকের সামনে ইডির বক্তব্য, “আমরা ‘সুপার হিউম্যান’ নই। তদন্তে সময় লাগবেই।” তাই এই মুহূর্তে জামিন দিলে, প্রভাব খাটিয়ে প্রমাণ লোপাটের আশঙ্কা থেকেই যায়।
জীবনের আইনজীবী পাল্টা বলেন, “একই অভিযোগে সিবিআই গ্রেফতার করেছিল। তখন সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে জামিন দিয়েছে। তাও ইডি আবার একই মামলায় কেন গ্রেফতার করল?” তাঁর আরও দাবি, একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে জীবনের বহু সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে।
কিন্তু ইডির জবাব, তাঁকে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা দেননি। তাই বাধ্য হয়েই গ্রেফতার করা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, “আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে কোনও বাধা থাকা উচিত নয়।”
এ দিন শুনানিতে মানিক ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গও তোলে ইডি। জানায়, সিবিআই মামলায় সুরক্ষা পেলেও ইডি-র মামলায় মানিক গ্রেফতার হয়েছেন। একইভাবে জীবনকৃষ্ণ সাহাকেও জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে হেফাজতে রাখা প্রয়োজন।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক জানিয়ে দেন, এখনই জামিন নয়। ফলে জেল হেফাজতেই থাকছেন মুর্শিদাবাদের তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা।