বহু প্রতীক্ষার অবসান। পরীক্ষামূলক পর্ব শেষে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে বিএসএনএল ৪জি (BSNL 4G)। ওড়িশা সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করবেন।

ছবি: এআই নির্মিত
শেষ আপডেট: 18 September 2025 21:17
পরীক্ষামূলকভাবে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু প্রতীক্ষিত বিএসএনএল-এর ৪জি (BSNL 4G) পরিষেবা চলছে। সংস্থা সূত্রের খবর, এবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই পরিষেবার পাকাপাকি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। সব কিছু ঠিকঠাক চললে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ওড়িশা থেকে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি-নির্ভর এই পরিষেবার কথা ঘোষণা করবেন তিনি। সেই তালিকায় কলকাতা (বৃহত্তর কলকাতা) ও পশ্চিমবঙ্গ সার্কেল (রাজ্যের বাকি এলাকা) দুটিও রয়েছে।
মোদীর ওই অনুষ্ঠান দেশে সংস্থাটির বিভিন্ন সার্কলে প্রচার করার কথা। সংস্থা সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিটি সার্কলের কয়েকটি কেন্দ্রে সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবস্থায় যোগাযোগ থাকবে। এ জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি সার্কলগুলিকে সেরকম কেন্দ্র বাছাই করার নির্দেশ দিয়েছে তাদের সদর দফতর। যেমন আপাতত এ রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গ সার্কলের ৫টি জেলার ৫ টি কেন্দ্রকে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ, উভয়ই রয়েছে। এর সঙ্গে আরও কিছু কেন্দ্র যোগ হতে পারে আবার এই কেন্দ্রগুলোও বদলাতে পারে। বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে আগামী দু'একদিনের মধ্যে। কলকাতা সার্কলেরও এমন কিছু কেন্দ্র নির্বাচন করার কথা। পাশাপাশি দেশে এমন বহু জায়গা রয়েছে যেখানে এখন কোনও মোবাইল টেলিকম পরিষেবাই নেই। অর্থাৎ, বিএসএনএল বা বেসরকারি কোনও সংস্থাই এখনও সেখানে পরিষেবা দেয় না। এরকম কেন্দ্রগুলোতেও বিএসএনএল-ই প্রথম পরিষেবা চালু করছে। সেটিও ৪জি পরিষেবায় হবে। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, সেই সব কেন্দ্রে গ্রাহকদের সঙ্গে মোদী এই পরিষেবায় কথা বলতে পারেন। যাকে বলা হয় টু ওয়ে কমিউনিকেশন (two way communication)। দেশে প্রথম মোবাইল পরিষেবা চালুর সময়ে ঠিক যেমন কথা বলেছিলেন কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রী সুখ রাম এবং এ রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। ইতিমধ্যেই বিএসএনএল তাদের সব পুরনো গ্রাহককে নিখরচায় ৪জি সিম দিয়েছে। এ ছাড়া গত এক মাসে এক টাকায় নতুন গ্রাহকদের ওই সিম দিয়েছে বলে খবর। কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গ সার্কলে কয়েক হাজার ৪জি টাওয়ার ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে।
বিএসএনএল-এর ৪জি পরিষেবা চালু নিয়ে বিতর্ক চলছে বহুদিন ধরে। প্রায় এক দশক আগে থেকেই বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলি ৪জি পরিষেবা চালু করে দেয়। বিশেষ করে রিলায়েন্স জিও কার্যত বিনামূল্যে পরিষেবা দিয়ে শুরু করেছিল এক তীব্র প্রতিযোগিতা।
সেই মাসল-যুদ্ধের ফলে দীর্ঘদিন বাজারে থাকা ভোডাফোন-আইডিয়া, ভারতী এয়ারটেল এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিএসএনএল (BSNL)-কে প্রবল চাপে পড়তে হয়। পরবর্তীতে বেসরকারি সংস্থাগুলি ৫জি পরিষেবা পর্যন্ত চালু করলেও বিএসএনএল এতদিনেও ৪জি আনতে পারেনি।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মী সংগঠন, যেমন বিএসএনএল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের একটি বড় অংশ এই বিলম্বের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তকে দায়ী করে। তাদের অভিযোগ, চিনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে চিনা টেলিকম যন্ত্রাংশ নিয়ে আপত্তি ওঠে।
যদিও কেন্দ্র কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি, তবুও টেলিকম দফতর (DOT) জানায়, শুধুমাত্র দেশীয় প্রযুক্তি-নির্ভর ৪জি যন্ত্রাংশ তৈরি হবে এবং সেগুলিই বিএসএনএল ব্যবহার করবে। এভাবেই বিদেশি যন্ত্রাংশ সংস্থাগুলিকে কার্যত বাদ দেওয়া হয় এবং দরপত্র ডেকেও তা বাতিল করতে বাধ্য হয় সংস্থা। প্রসঙ্গত, বেসরকারি সংস্থাগুলি কিন্তু বিদেশি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেই দ্রুত ৪জি পরিষেবা চালু করতে সক্ষম হয়েছিল।
পরবর্তীতে ডটের নির্দেশে দেশীয় প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় গবেষণা সংস্থা সিডটের সঙ্গে টিসিএস এবং টাটা গোষ্ঠীর তেজস যৌথভাবে এই প্রকল্পের বরাত পায়। এমনকি এই দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রথমে মাহিন্দ্রা গোষ্ঠী থাকলেও, শেষপর্যন্ত সরে যায় তারা। তেজস ও টিসিএস-ই গবেষণা ও উৎপাদন শুরু করে। প্রকল্পটি রূপায়িত হয় তাদেরই হাত ধরে। বছর দেড়েক আগে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় প্রথম এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালুও হয়।
তার পর থেকে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন বিএসএনএল সার্কেলে এক লক্ষ ৪জি টাওয়ার বসানো হয়। কিন্তু সরকারিভাবে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বিএসএনএল ৪জি পরিষেবা বাণিজ্যিকভাবে চালুর কথা আনুষ্ঠানিক মঞ্চে ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই পরীক্ষামূলক পরিষেবা চালু হলেও, সেসব জায়গায় কল করা ও সংযোগের মান নিয়ে গ্রাহকদের একাংশ ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছেন। তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর হাতে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে বিএসএনএল-এর বহু প্রতীক্ষিত ৪জি পরিষেবা।