ঠিক সেই সময়েই, আইপ্যাক দফতর থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে থাকা হোটেলে নাড্ডার বৈঠকের কাছে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা কর্তার উপস্থিতি।

আইপিএস সুমিত কুমার।
শেষ আপডেট: 8 January 2026 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সল্টলেক সেক্টর ফাইভের এক হোটেলে তখন টানটান রাজনৈতিক বৈঠক। রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক রণকৌশল ঠিক করতে সভায় বসেছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা (JP Nadda)। ঠিক সেই সময়েই আচমকা হোটেল চত্বরে হাজির মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) নিরাপত্তা বাহিনীর এক শীর্ষ কর্তা (Security Officer)। রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (নিরাপত্তা) আইপিএস সুমিত কুমার। নড্ডার বৈঠকস্থলের একেবারে কাছাকাছি করিডর পর্যন্ত তাঁর যাওয়া, তারপর হঠাৎই ঘুরে বেরিয়ে যাওয়া, সব মিলিয়ে মুহূর্তে কৌতূহল ছড়ায় রাজনৈতিক মহলে।
বৃহস্পতিবার এই ঘটনাকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। কারণ, সেই সকাল থেকেই আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকের দফতরে তল্লাশি চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আইপ্যাক তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা। ইডি হানার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পৌঁছে যান প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে, পরে সেক্টর ফাইভের আইপ্যাক দফতরে। সেখানেই তিনি অপেক্ষা করবেন বলে জানান। ঠিক সেই সময়েই, আইপ্যাক দফতর থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে থাকা হোটেলে নাড্ডার বৈঠকের কাছে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা কর্তার উপস্থিতি।
দুপুরে সল্টলেকের ওই হোটেলে নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিভিন্ন জেলার সভাপতি এবং সংগঠনের আহ্বায়করা। বৈঠক চলাকালীন হোটেল চত্বরে ডিআইজি (নিরাপত্তা)-কে দেখে প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীরা নড়েচড়ে বসেন। এরপর সংবাদমাধ্যমের নজর পড়তেই পরিস্থিতি আরও চাঞ্চল্যকর হয়ে ওঠে। নাড্ডাদের বৈঠক যে সম্মেলনকক্ষে চলছিল, তার দিকেই এগোচ্ছিলেন সুমিত কুমার। ক্যামেরা তাক করা হতেই তিনি পিছন ফিরে উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেন এবং যে রাস্তা দিয়ে ঢুকেছিলেন, সেই পথেই বেরিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
হোটেলের বাইরে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, নাড্ডার বৈঠক চলাকালীন হোটেলে কেন এসেছেন তিনি? সংক্ষিপ্ত জবাব আসে, “একজনকে খুঁজতে এসেছিলাম।” এর বেশি কিছু না বলেই গাড়িতে উঠে চলে যান আইপিএস কর্তা। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত উত্তর রহস্যের জট খোলার বদলে কৌতূহলই আরও বাড়িয়ে দেয়।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও শুরু হয় জল্পনা। বৈঠককক্ষের বাইরে থাকা নেতারা যেমন খোঁজখবর নিতে শুরু করেন, তেমনই ভিতরে থাকা প্রথম সারির নেতাদের আপ্তসহায়ক ও নিরাপত্তাকর্মীরাও বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত আইপিএস কর্তার এই আকস্মিক আগমন ও প্রস্থানের খবর পৌঁছে যায় নাড্ডার বৈঠককক্ষের ভিতরেও।