কেউ ডাকত ম্যাঙ্গো, কেউ দাদা। ক্ষমতার দাপটে চালাত 'দাদাগিরি'।
.jpeg.webp)
প্রধান অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র।
শেষ আপডেট: 28 June 2025 10:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ ডাকত ম্যাঙ্গো, কেউ দাদা। ক্ষমতার দাপটে চালাত 'দাদাগিরি'। আর সেই দাপট এমনই যে অনেকে তার নামও উচ্চারণ করার সাহস পেত না। পরিবর্তে ডাকতে হত, 'এম এম' অর্থাৎ মনোজিৎ মিশ্র! কলেজে কান পাতলে এখন শুনতে পাওয়া যাচ্ছে, কলেজের অন্দরে তার এই ক্ষমতা এতটাই প্রবল ছিল যে কেউই বিরোধিতা করার সাহস পেত না।
কসবার আইন কলেজে (Kasba Law College Rape Case) ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার মনোজিৎ মিশ্র (Manojit, Mishra)। সঙ্গে গ্রেফতার আরও দুই অভিযুক্ত। মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ ওই কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মী।
কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে শিক্ষক, কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা—সব কিছুতেই মনোজিৎ নিজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছিল। যার জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে এখনও কলেজের দেওয়ালে জ্বলজ্বল করছে, 'টিম এমএম', 'মনোজিৎ দাদা তুমি আমাদের হৃদয়ে আছ' লেখা। পড়ুয়াদের কথায়, ভক্তি নয়, ভয়ে এম এম এর কথা শুনে সবাই চলতে বাধ্য হত!
কলেজ সূত্রেই জানা যাচ্ছে, এই প্রথম নয়, অতীতেও একাধিক অপরাধের অভিযোগে পুলিশের খাতায় নাম রয়েছে এই প্রভাবশালী 'এমএম' এর।
সূত্রের খবর, ২০১২ সালে প্রথমবার কলেজে ভর্তি হয় মনোজিৎ। এক বছরের মধ্যে ছুরি মারার ঘটনায় নাম জড়ায় তার। এরপর ২০১৪ সালে ডিসকলেজিয়েট করা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালে ফের ভর্তি হয়। এর মধ্যেই সিসিটিভি ভাঙচুর, শিক্ষকদের ঘেরাও-সহ একাধিক অভিযোগ জমা পড়তে থাকে মনোজিতের বিরুদ্ধে।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দক্ষিণ কলকাতা জেলার ইউনিট প্রেসিডেন্ট পদে ছিল মনোজিৎ। তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে জুনিয়রদের চমকানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
যদিও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলেন, "২০১৯ সালে তাকে দক্ষিণ কলকাতার একটি পদ দেওয়া হয়েছিল। আমাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব ছিল না যে সে পরে এমন করবে।" ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কঠোর শাস্তি দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের অন্যান্য নেতৃত্বও। শশী পাঁজা বলেন, "কোনও বাঁদরামি সহ্য করা হবে না।" কুণাল ঘোষের মন্তব্য, "এর কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।"
শাসকদলের তরফে কঠোরতম শাস্তির কথা বলা হলেও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, "২০১২ সাল থেকেই মনোজিৎ মিশ্রের নামে একাধিক অভিযোগ ছিল। তা সত্ত্বেও তাকে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কেন?"
আইন কলেজের এই ঘটনায় তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছেঁড়া চুল সহ একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল। শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থলে যান কলকাতার পুলিশ কমিশার মনোজ ভার্মাও। সূত্রের খবর, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জানতে ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে।