আলিপুরে চর্ম ও কুটিরশিল্পকেন্দ্র 'শিল্পান্ন'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলায় কী কী হয়েছে, তার ফিরিস্তি দিয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শিল্পান্নর উদ্বোধনে মমতা
শেষ আপডেট: 10 July 2025 19:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "বাংলায় অনেক কিছু হয়েছে। আপনারা হয় তো অনেক কিছুই জানেন না। কারণ এখন একটাই প্রবলেম, নেগেটিভ আর ন্যারেটিভ। পজিটিভিটি আর ক্রিয়েটিভিটির ব্যাপারে কিছুই বলে না।" আলিপুরে চর্ম ও কুটিরশিল্পকেন্দ্র 'শিল্পান্ন'র (Shilpanna) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলায় কী কী হয়েছে, তার ফিরিস্তি দিয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুরুতেই বলেন, "আমি রাস্তায় যেতে যেতে তাকিয়ে থাকি। কোথায় আমাদের জমি খালি পড়ে আছে। কী করা যায়। সেইভাবেই শিল্পান্নর ভাবনা এসেছিল। ভারতে লেদার শিল্পে বাংলা নম্বর ওয়ান। মহিলারা বাইরে গেলে চামড়ার ব্যাগ কিনতে পছন্দ করেন। বাইরে যে ব্যাগ ৩০-৪০ হাজার টাকায় কিনতে হয়, এখানে সেটাই তিন হাজার টাকায় পেয়ে যাবেন।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাজের প্রশংসা করেন। একাধিক মঞ্চে জানিয়েছিলেন, নতুন কিছু করা যায় কিনা তাঁদের জন্য, সেটা নিয়ে ভাবেন। বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেন। যে কারণে জেলায় জেলায় সরকারি জমিতে যত শপিং মল তৈরি হচ্ছে, সেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য জায়গার ব্যবস্থা করছেন তিনি। এদিনের অনুষ্ঠানমঞ্চে দাঁড়িয়ে, ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা জমি দিচ্ছি এক টাকায়। সরকারের জমির উপর শপিং মল হোক আর যত তলারই হোক, ব্যবসায়ীদের জানিয়ে রাখা আছে অন্তত দুটো ফ্লোর আমার চাই। সেটা হবে সেলফ-হেল্প গ্রুপের জন্য। শিল্পান্নতেও ওরা থাকছে। তাছাড়া বাকি অনেক সংস্থার জিনিসও পাওয়া যাবে।"
এছাড়াও আলিপুরের সৌন্দর্যায়ন নিয়ে কথা বলতে বলতে মমতা বলেন, সরকারি অফিসাররা অনেকটা দূরে দূরে থাকেন। আলিপুরে একটা সাত তলার ক্যাম্প অফিস করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে এডিজি আইনশৃঙ্খলা, এসটিএফ চিফ, এসএসকেএম হাসপাতালের প্রিন্সিপালরা থাকতে পারবেন। যাতে কোনও রকম এমারজেন্সি হলে সকলকে একসঙ্গে পাওয়া যায়। মমতার কথায়, "অনেক সময় নবান্ন থেকে আসতে সময় লাগে, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও আলিপুরে থাকেন। তাই ক্যাম্প অফিসের দরকার ছিল। এতে নবান্ন ১৫ মিনিট হয়ে যাবে, আর আমার বাড়ি দু'মিনিট।"
এসব চিন্তাভাবনা যে হুট করে আসে না সে কথাও বলেন তিনি। জানান, "সবাই আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি কখন হাঁটি। তাঁদের বলি যখন সময় পাই তখনই হাঁটি। আমাকে ফাইল পড়ে শোনানোর সময়ও হাঁটি। ১২ পা হলেও হাঁটি। কারণ আমি একটা কথা বিশ্বাস করি। আমি যখন হাঁটি, আমার মাথাও হাঁটে।"
ঠিক যেভাবে ভেবেছেন, পেয়ারা পাতা দিয়েও চা তৈরি করা যায়। মকাইবারি চায়ের মালিকের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ করেন, তিনি যেন ব্যাপারটা নিয়ে ভাবেন। ডায়বেটিসের ওষুধ বাতলে দিয়ে তিনি বলেন, "এখন অনেকের ডায়েবেটিস আছে। অনেক ক্ষেত্রেই সেটা হতে পারে। পেয়ারা পাতা জোগাড় করো। সেটাকে ভাল করে ধুয়ে কুচিকুচি করে কেটে গরম জলে ফোটাও। তাতে একটু লেবু দিয়ে আর যা লাগে সেটা দেখে নিয়ে গোয়াভা (পেয়ারা) পাতার টি (চা) বানাতে পারলে ডায়েবেটিক রোগীদের জন্য খুব ভাল হবে।"
বস্তুত, কলকাতাকে ঢেলে সাজাতে গত বছর শেষের দিকে একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেন, আলিপুর চিড়িয়াখানার উলটো দিকে শপিংমল হবে। যেখানে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। মমতা জানিয়েছিলেন, এতে উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও যে বাড়বে। এমন অনেক কিছুই যে বাংলাকে সমৃদ্ধ করে রেখেছে সে কথাও বুঝিয়ে দিলেন তিনি। যেখান থেকে উঠে আসে তাঁর নেগেটিভ ন্যারেটিভ প্রসঙ্গ।