কলকাতার পাশাপাশি দিল্লি, মুম্বই এবং দক্ষিণ ভারতের শহরগুলিতেও গ্রহণের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মুম্বই এবং দিল্লিতে চাঁদ উঠেছে ৬টা ২২ মিনিটে।

কলকাতায় রক্তচাঁদ, ছবি: অরিত্র কবিরাজ
শেষ আপডেট: 3 March 2026 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাল্গুনের শেষ বেলায় তিলোত্তমার আকাশে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের কোলাজ। মঙ্গলবার সন্ধে নামার মুখেই শহরের (Kolkata) পূর্ব আকাশ রাঙিয়ে উদয় হল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ (lunar eclipse)। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যা 'ব্লাড মুন' বা রক্তচাঁদ (Kolkata Blood Moon)। কলকাতা তো বটেই, রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আকাশপ্রেমীরা সাক্ষী থাকলেন এই অসামান্য মুহূর্তের।
কলকাতার আকাশে এদিন চাঁদ দেখা গিয়েছে বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিট নাগাদ। সেই সময়েই গ্রহণের পূর্ণগ্রাস চলছিল। ফলে উদয়ের সময় চাঁদের প্রায় ৯১ শতাংশই ছিল গাঢ় লাল। গ্রহণ কাটতে শুরু করলে ধীরে ধীরে সেই লালচে ভাব ফিকে হতে থাকে। ঘড়ির কাঁটায় ৬টা ৪৭ মিনিটের পর থেকে ফের নিজের পরিচিত উজ্জ্বল রূপে ফিরতে শুরু করে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।

ছবি: অরিত্র কবিরাজ
দেশের অন্য প্রান্তেও গ্রহণের ছটা
কলকাতার পাশাপাশি দিল্লি, মুম্বই এবং দক্ষিণ ভারতের শহরগুলিতেও গ্রহণের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মুম্বই এবং দিল্লিতে চাঁদ উঠেছে ৬টা ২২ মিনিটে। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট ধরে পূর্ণগ্রাস গ্রহণের সাক্ষী ছিলেন বাসিন্দারা। বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়েও ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ রক্তিম চাঁদ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
মার্চ মাসের এই প্রথম পূর্ণিমার চাঁদকে বলা হয় 'ওয়র্ম মুন' বা 'কেঁচো চাঁদ'। নামকরণের নেপথ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক কারণ। কানাডা বা উত্তর আমেরিকার দেশগুলিতে এই সময় থেকে বরফ গলতে শুরু করে। মাটির তলা থেকে দলে দলে কেঁচো বেরিয়ে আসে বাইরে। বসন্তের শুরুতে পাখিদের প্রজননকাল। তার আগে এই কেঁচো খেয়েই পেট ভরায় পরিযায়ী পাখিরা। সেই থেকেই এই পূর্ণিমার নাম হয়েছে 'ওয়র্ম মুন'।

ছবি: অরিত্র কবিরাজ
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ কেন মিশমিশে কালো না হয়ে লাল দেখায়, তা নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই সাধারণের। বিজ্ঞানীরা বলেন, এটি আদতে আলোকবিজ্ঞানের খেলা। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যখন সূর্যের আলো শোষণ করে, তখন নীল রঙের তরঙ্গ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গটি প্রতিসরিত হয়ে সরাসরি চাঁদের গায়ে গিয়ে পড়ে। আর সেই প্রতিসরিত আলোর ছটাতেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে দেখায় গাঢ় কালচে লাল।