
শেষ আপডেট: 26 July 2018 13:07
দেশের প্রথম সারির জোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, আর্যভট্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব অবজারভেশনাল সায়েন্সের গবেষক ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের কেন্দ্রবিন্দুর অবস্থান এবং সেই সময় চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্বের ওপরেই নির্ভর করে চন্দ্রগ্রহণের সময়সীমা। শুক্রবার রাতে, সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের কেন্দ্রবিন্দু থাকবে প্রায় সরলরেখায়। একে বলা হয় sygyzy। একই সঙ্গে সেইসময় চাঁদ তার উপবৃত্তাকার কক্ষে পৃথিবীর থেকে সর্বাধিক দূরে থাকবে। ফলে পৃথিবী থেকে চাঁদকে দেখাবে সব থেকে ছোট। একই কারণে পৃথিবীর ছায়া পেরিয়ে যেতেও সব থেকে বেশি সময় লাগবে তার। আর এর জন্যই এত দীর্ঘ সময় ধরে দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ।
সূর্যের আলো ঢেকে দেওয়া পৃথিবীর ছায়ার দুটো ভাগ আছে। একটি আমব্রা বা প্রচ্ছায়া। আরেকটি পেনামব্রা বা উপচ্ছায়া। চাঁদ যখন পৃথিবীর উপচ্ছায়া অংশের মধ্যে দিয়ে যাবে তখন তাঁর ঔজ্জ্বল্য কমবে। কিন্তু খালি চোখে সেটা খুব স্পষ্ট ভাবে নাও বোঝা যেতে পারে।
বোঝা যাবে তখনই যখন চাঁদের অবস্থান প্রচ্ছায়া অংশের মধ্যে। তখন আলো সম্পূর্ণ ঢেকে গিয়ে লাল হয়ে যাবে চাঁদ।
ইন্দ্রনীলবাবু আরও জানাচ্ছেন, পৃথিবী আর চাঁদের কক্ষগুলোকে কখনই এক কাল্পনিক সমতলে ধরে নেওয়া যায় না। এদের প্রত্যেকের কক্ষপথের সমতলের অবস্থান কৌণিক। কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের একই সরলরেখায় আসার ঘটনা ঘটলেই হয় চন্দ্রগ্রহণ।
https://www.youtube.com/watch?v=-lcTRsJ21oo
একমাত্র পূর্ণিমার রাতেই দেখা যায় এই ঘটনা। যখন পৃথিবীর বিপরীত দিকে থাকে সূর্য আর চাঁদের অবস্থান। সূর্যগ্রহণের ঘটনা আবার ঘটে অমাবস্যার সময়। কারণ সেই সময় সূর্য ও চাঁদের অবস্থান আসলে পৃথিবীর একদিকেই।
দীর্ঘ সময় ধরে গ্রহণ নিয়ে নানা ধরণের কুসংস্কার আছে সাধারণ মানুষের মনে। অনেকেরই ধারণা এই সময় খাবার খেতে নেই। চন্দ্রগ্রহণের সময়কার লাল চাঁদ নিয়েও নানা ভুল ধারণা ছিল প্রাচীন মানুষের মনে। তাঁরা মনে করতেন এই চাঁদের জন্য ঘটবে অস্বাভাবিক ঘটনা।
তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন গ্রহণের সময়ে এই রঙ বদল চাঁদের কোনও পরিবর্তনের জন্য ঘটে না। ঘটে পৃথিবীর আবহাওয়া মণ্ডলের কারণে।
চাঁদের গায়ের প্রতিফলিত হয় সূর্যের আলো। গ্রহণের সময় সেই আলো পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে গেলেও, পৃথিবীর আবহাওয়া মণ্ডলে প্রতিসরিত সূর্য রশ্মির প্রতিফলিত হয় চাঁদের গায়ে। যেহেতু এই প্রতিসরণের সময় সব থেকে কম বিক্ষিপ্ত হয় লাল রঙ, তাই চাঁদের রঙও লাল লাগে এই সময়।
তবে এই চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রবল আগ্রহ থাকলেও, জোতির্বিজ্ঞানী গবেষণায় বিশেষ কোনও গুরুত্ব নেই এমনই মনে করেছেন ইন্দ্রনীল। তিনি জানাচ্ছেন, এক সময় গ্রহণকে ব্যবহার করা হত চাঁদের খুব কাছাকাছি থাকা তারাদের পর্যবেক্ষণ করার জন্য। স্বাভাবিক অবস্থায় চাঁদের ঔজ্জ্বল্যের কারণে স্পষ্ট করে বোঝা যায় না এই তারাদের। তাই গ্রহণের সময় চাঁদের ঔজ্জ্বল্য কমে গেলেই একমাত্র এই তারাদের দেখা যায়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অকুলেশন। কিন্তু এখন এই ধরণের পর্যবেক্ষণও বেশ পুরনো হয়ে গিয়েছে।