Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটল

এত দীর্ঘ চন্দ্রগ্রহণ! আঠারো বছর পর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘মাঝ রাত্তিরে চাঁদের কাস্তে, ধারালো হচ্ছে আস্তে আস্তে।’ লিখেছিলেন কবীর সুমন। সেই চাঁদই রঙ বদলাবে শুক্রবার রাতে। হালকা কমলা থেকে ঘন লাল হয়ে একসময় ঢেকেও যাবে সম্পূর্ণ। ঘটবে একবিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ। দীর্ঘ এক ঘণ্টা

এত দীর্ঘ চন্দ্রগ্রহণ! আঠারো বছর পর

শেষ আপডেট: 26 July 2018 13:07

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘মাঝ রাত্তিরে চাঁদের কাস্তে, ধারালো হচ্ছে আস্তে আস্তে।’ লিখেছিলেন কবীর সুমন। সেই চাঁদই রঙ বদলাবে শুক্রবার রাতে। হালকা কমলা থেকে ঘন লাল হয়ে একসময় ঢেকেও যাবে সম্পূর্ণ। ঘটবে একবিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ। দীর্ঘ এক ঘণ্টা ৪৩ মিনিট ধরে। তার আগে পরে দেখা যাবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণও। সেইগুলোর স্থায়িত্ব এক ঘণ্টা ছয় মিনিট করে। এর আগে এত দীর্ঘ সময়ে চন্দ্রগ্রহণ দেখা গিয়েছিল গত আঠারো বছর আগে। ১৬ জুন ২০০০ সালে। ২৭ জুলাই রাত ১১.৫৪ থেকে এই মহাজাগতিক ঘটনা দেখা যাবে কলকাতা সহ সারা দেশে। দেখতে পাবেন এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপের মানুষও। চন্দ্রগ্রহণ শেষ হবে শনিবার ভোর পাঁচটায়। এই নিয়ে জনমানসে আগ্রহ তুঙ্গে। শ্রাবণ মাসের ঘন ঘোর বর্ষা বা মেঘে ঢাকা রাতে এই মহাজাগতিক বিস্ময় দেখতে পাওয়া যাবে কিনা তাই নিয়েও রয়েছে সংশয় । একই সঙ্গে উজ্জ্বল লাল হয়ে আকাশে জ্বলজ্বল করবে সৌরমণ্ডলে পৃথিবীর প্রতিবেশী মঙ্গলগ্রহ। কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে ওই দিনই পৃথিবীকে মাঝখানে রেখে সূর্যের ঠিক উল্টো দিকে চলে যাবে মঙ্গল। তবে, মঙ্গলের সঙ্গে পৃথিবীর দূরত্ব সব থেকে কম থাকবে আগামী মঙ্গলবারেই। দেশের প্রথম সারির জোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, আর্যভট্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব অবজারভেশনাল  সায়েন্সের গবেষক ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের কেন্দ্রবিন্দুর অবস্থান এবং সেই সময় চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্বের ওপরেই নির্ভর করে চন্দ্রগ্রহণের সময়সীমা। শুক্রবার রাতে, সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের কেন্দ্রবিন্দু থাকবে প্রায় সরলরেখায়। একে বলা হয় sygyzy। একই সঙ্গে সেইসময় চাঁদ তার উপবৃত্তাকার কক্ষে পৃথিবীর থেকে সর্বাধিক দূরে থাকবে। ফলে পৃথিবী থেকে চাঁদকে দেখাবে সব থেকে ছোট। একই কারণে পৃথিবীর ছায়া পেরিয়ে যেতেও সব থেকে বেশি সময় লাগবে তার। আর এর জন্যই এত দীর্ঘ সময় ধরে দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ।   সূর্যের আলো ঢেকে দেওয়া পৃথিবীর ছায়ার দুটো ভাগ আছে। একটি আমব্রা বা প্রচ্ছায়া। আরেকটি পেনামব্রা বা উপচ্ছায়া। চাঁদ যখন পৃথিবীর উপচ্ছায়া অংশের মধ্যে দিয়ে যাবে তখন তাঁর ঔজ্জ্বল্য কমবে। কিন্তু খালি চোখে সেটা খুব স্পষ্ট ভাবে নাও বোঝা যেতে পারে। বোঝা যাবে তখনই যখন চাঁদের অবস্থান প্রচ্ছায়া অংশের মধ্যে। তখন আলো সম্পূর্ণ ঢেকে গিয়ে লাল হয়ে যাবে চাঁদ। ইন্দ্রনীলবাবু আরও জানাচ্ছেন, পৃথিবী আর চাঁদের কক্ষগুলোকে কখনই এক কাল্পনিক সমতলে ধরে নেওয়া যায় না। এদের প্রত্যেকের কক্ষপথের সমতলের অবস্থান কৌণিক। কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের একই সরলরেখায় আসার ঘটনা ঘটলেই হয় চন্দ্রগ্রহণ। https://www.youtube.com/watch?v=-lcTRsJ21oo একমাত্র পূর্ণিমার রাতেই দেখা যায় এই ঘটনা। যখন পৃথিবীর বিপরীত দিকে থাকে সূর্য আর চাঁদের অবস্থান। সূর্যগ্রহণের ঘটনা আবার ঘটে অমাবস্যার সময়। কারণ সেই সময় সূর্য ও চাঁদের অবস্থান আসলে পৃথিবীর একদিকেই। দীর্ঘ সময় ধরে গ্রহণ নিয়ে নানা ধরণের কুসংস্কার আছে সাধারণ মানুষের মনে। অনেকেরই ধারণা এই সময় খাবার খেতে নেই। চন্দ্রগ্রহণের সময়কার লাল চাঁদ নিয়েও নানা ভুল ধারণা ছিল প্রাচীন মানুষের মনে। তাঁরা মনে করতেন এই চাঁদের জন্য ঘটবে অস্বাভাবিক ঘটনা। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন গ্রহণের সময়ে এই রঙ বদল চাঁদের কোনও পরিবর্তনের জন্য ঘটে না। ঘটে পৃথিবীর আবহাওয়া মণ্ডলের কারণে। চাঁদের গায়ের প্রতিফলিত হয় সূর্যের আলো। গ্রহণের সময় সেই আলো পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে গেলেও, পৃথিবীর আবহাওয়া মণ্ডলে প্রতিসরিত সূর্য রশ্মির প্রতিফলিত হয় চাঁদের গায়ে। যেহেতু এই প্রতিসরণের সময় সব থেকে কম বিক্ষিপ্ত হয় লাল রঙ, তাই চাঁদের রঙও লাল লাগে এই সময়। তবে এই চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রবল আগ্রহ থাকলেও, জোতির্বিজ্ঞানী গবেষণায় বিশেষ কোনও গুরুত্ব নেই এমনই মনে করেছেন ইন্দ্রনীল। তিনি জানাচ্ছেন, এক সময় গ্রহণকে ব্যবহার করা হত চাঁদের খুব কাছাকাছি থাকা তারাদের পর্যবেক্ষণ করার জন্য। স্বাভাবিক অবস্থায় চাঁদের ঔজ্জ্বল্যের কারণে স্পষ্ট করে বোঝা যায় না এই তারাদের। তাই গ্রহণের সময় চাঁদের ঔজ্জ্বল্য কমে গেলেই একমাত্র এই তারাদের দেখা যায়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অকুলেশন। কিন্তু এখন এই ধরণের পর্যবেক্ষণও বেশ পুরনো হয়ে গিয়েছে।

```