রান্নার গ্যাসের সঙ্কট মোকাবিলায় হয় অত্যাবশ্যক পণ্য বিক্রি আইনের জরুরি ধারা প্রয়োগ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৫৫ সালের ওই আইনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিমাণে মজুত, বিক্রি এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ।

শেষ আপডেট: 11 March 2026 09:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ার সংঘাতের (Middle East) আগুনের আঁচ এসে পড়ছে ভারতেও (India)। জ্বালানি সঙ্কটের মুখে সমগ্র দেশ। ইতিমধ্যেই এলপিজি গ্যাসের (LPG Gas Crisis) হাহাকার দেখা গেছে, মুম্বই, বেঙ্গালুরুর মতো বড় বড় শহরগুলির রেস্তরাঁ-হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে। গৃহস্থের সিলিন্ডার বুকিংয়েও এসেছে নানা জটিলতা। কলকাতাতেও (Kolkata LPG Crisis) এর রেশ অনেকটাই। রাতারাতি বেড়েছে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং,একইসঙ্গে বাড়ছে কালোবাজারিও।
রান্নার গ্যাস (Cooking Gas) নিয়ে উদ্বেগে অনেকেই একসঙ্গে বুকিং করতে শুরু করায় কয়েক দিনের মধ্যেই বুকিং সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায়, এই সুযোগে কালোবাজারিরা বহু বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে, এমনকি প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বল যোজনার (Pradhan Mantri Ujjwala Yojana) দরিদ্র পরিবারের সিলিন্ডারও হাতবদল হচ্ছে বেআইনিভাবে।
তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (IOC) বুকিং ৫ মার্চ নাগাদ ২.৫ লক্ষ থেকে ৯ মারচে ৫.৮ লক্ষে পৌঁছেছে। সব তেল–বিপণন সংস্থা মিলিয়ে বুকিং ৩.৯ লক্ষ থেকে বেড়ে ৭.৫ লক্ষেরও বেশি হয়েছে একই সময়ে।
সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ সিলিন্ডার লাগে রাজ্যে। তার মধ্যে IOC দেয় ৩ লক্ষের বেশি, বাকি সরবরাহ করে BPCL ও HPCL। অল্প সময়ের মধ্যে এত বুকিং হওয়ায় ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে চাপ পড়েছে এবং ঘাটতির সুযোগে বেআইনি বাজার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
কলকাতার আজাদগড়, বিজয়গড়, বিক্রমগড়ের মতো এলাকায় বহু ছাত্রছাত্রী ও ভাড়াটিয়া থাকেন। তাঁদের বেশিরভাগের নিজস্ব LPG কানেকশন নেই। তাঁরা সাধারণত ছোট সিলিন্ডার বা অস্থায়ী সরবরাহকারীদের উপর নির্ভর করেন। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এইসব জায়গায় কালোবাজারে দামের বহু গুণ বেশি টাকা দিয়ে সিলিন্ডার নিতে হচ্ছে।
এমনকি যাঁদের নিজস্ব গ্যাস কানেকশন আছে, তাঁরাও এখন অতিরিক্ত সিলিন্ডারের জন্য কালোবাজারে (Black Market) ভিড় জমাচ্ছেন।
শুধু বাড়ি নয়, শহরের রেস্তরাঁগুলিও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্কট তীব্র হলে বহু খাবারের দোকান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। National Restaurant Association of India (NRAI) জানিয়েছে, কলকাতায় প্রায় ৫ হাজার রেস্তরাঁ আছে এবং এদের বিশাল অংশ রান্নার জন্য পুরোপুরি LPG–র উপর নির্ভরশীল।
NRAI–এর কলকাতা বিভাগের প্রধান পিয়ূষ কানকারিয়া বলেছেন, অনেক রেস্তরাঁয় এখনই রান্নার গ্যাস শেষ হওয়ার পথে। এরমধ্যে ৪০ শতাংশ রেস্তরাঁ দ্রুত বিপর্যয়ে পড়বে। আরও ৩০–৪০ শতাংশ মাত্র কয়েক দিনের মতো গ্যাস মজুত রেখে চালাতে পারবে।
এদিকে, রান্নার গ্যাসের সঙ্কট মোকাবিলায় হয় অত্যাবশ্যক পণ্য বিক্রি আইনের জরুরি ধারা প্রয়োগ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৫৫ সালের ওই আইনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিমাণে মজুত, বিক্রি এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ। সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে, এই আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, উৎপাদন ও জোগানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সমতাভিত্তিক বিপণন।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormmuz) দিয়ে তরল গ্যাস আমদানি বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জরুরি পরিষেবায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের ৩ ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারকে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ও বন্টন, সেই সঙ্গে এর সাথে সম্পর্কিত ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।