বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিমাণে রান্নার গ্যাস মজুত করা হলে সরবরাহকারীর লাইসেন্স বাতিল করা হবে। সর্বভারতীয় এই আইনে রাজ্য সরকারগুলিও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।

শেষ আপডেট: 10 March 2026 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রান্নার গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় হয় অত্যাবশ্যক পণ্য বিক্রি আইনের জরুরি ধারা প্রয়োগ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৫৫ সালের ওই আইনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিমাণে মজুত, বিক্রি এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ। সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে, এই আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, উৎপাদন ও জোগানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সমতাভিত্তিক বিপণন।
আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির পর থেকে বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ভারতেরও জ্বালানি তেল ও রান্নার গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। যদিও সরকারের বক্তব্য, কিছু মানুষ আতঙ্ক ছড়িয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি ও রান্নার গ্যাস মজুত করেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে মুম্বইয়ে। এখানে রান্নার গ্যাসের অভাবে বহু হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার রাস্তায়ও এবং বেসরকারি, জ্বালানি উৎপাদনকারী সব কোম্পানিকেই সর্বোচ্চ উৎপাদন বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে মঙ্গলবার।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তরল গ্যাস আমদানি বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জরুরি পরিষেবায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের ৩ ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারকে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ও বন্টন, সেই সঙ্গে এর সাথে সম্পর্কিত ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এই আইনের বলে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে? বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আদেশ অনুসারে, নির্দিষ্ট কিছু খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অগ্রাধিকার বরাদ্দ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং গত ছয় মাসের গড় গ্যাস ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা হবে। তবে প্রয়োজনে সরকার বরাদ্দ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। তবে আপাতত শহরগুলিতে গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলিকে তাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহ করা শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গত ছয় মাসের গড় গ্যাস ব্যবহারের আশি শতাংশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিমাণে রান্নার গ্যাস মজুত করা হলে সরবরাহকারীর লাইসেন্স বাতিল করা হবে। সর্বভারতীয় এই আইনে রাজ্য সরকারগুলিও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।