মুম্বইয়ের বেশ কিছু পরিচিত খাবারের দোকান পরিস্থিতি সামাল দিতে মেনু পরিবর্তন করছে বা রান্নার পদ্ধতি কমিয়ে দিচ্ছে। কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান—যেমন জিপসি, শারদা ভবন ও জে হিয়ার্সচ অ্যান্ড কো.—গ্যাস বাঁচাতে সীমিত খাবার পরিবেশন করছে। তবে যেসব রেস্তোরাঁ সরাসরি গ্যাস পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত, তারা এখনও বড় সমস্যার মুখে পড়েনি।

শেষ আপডেট: 10 March 2026 11:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পে। বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের (LPG crisis) তীব্র ঘাটতির জেরে মুম্বইয়ে ইতিমধ্যেই বহু রেস্তোরাঁ ও হোটেল বন্ধ হতে শুরু করেছে। শিল্প সংগঠনগুলির আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত না সামলানো গেলে এই সপ্তাহের মধ্যেই মুম্বইয়ের প্রায় অর্ধেক হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইতিমধ্যেই বন্ধ ২০ শতাংশ হোটেল
মুম্বইয়ের প্রধান হোটেল সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব হোটেলস অ্যান্ড রেস্তোরাঁস (AHAR) জানিয়েছে, শহরের প্রায় ১০–২০ শতাংশ হোটেল ইতিমধ্যেই গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।সংগঠনের সভাপতি বিজয় শেট্টির বক্তব্য, সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে আগামী দু’দিনের মধ্যে সমস্যার মাত্রা ভয়াবহ হতে পারে। তাঁর কথায়, “আজ ১০-২০ শতাংশ হোটেল সমস্যায় রয়েছে। কাল তা ৬০ শতাংশে পৌঁছতে পারে। তার পরের দিন প্রায় সব রেস্তোরাঁই বন্ধ হওয়ার মুখে পড়বে।”
কেন তৈরি হল গ্যাস সঙ্কট
হোটেল মালিকদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতের জেরে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটেছে। ফলে নিয়মিত চ্যানেল দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে AHAR ইতিমধ্যেই পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রককে চিঠি লিখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছে। পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের নাগরিক সরবরাহমন্ত্রী ছগন ভুজবলের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
রেস্তোরাঁগুলিতে মেনু বদল
মুম্বইয়ের বেশ কিছু পরিচিত খাবারের দোকান পরিস্থিতি সামাল দিতে মেনু পরিবর্তন করছে বা রান্নার পদ্ধতি কমিয়ে দিচ্ছে। কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান—যেমন জিপসি, শারদা ভবন ও জে হিয়ার্সচ অ্যান্ড কো.—গ্যাস বাঁচাতে সীমিত খাবার পরিবেশন করছে। তবে যেসব রেস্তোরাঁ সরাসরি গ্যাস পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত, তারা এখনও বড় সমস্যার মুখে পড়েনি।
শুধু মুম্বই নয়, অন্য শহরেও সমস্যা
এই সংকট শুধু মুম্বইতেই সীমাবদ্ধ নয়। বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই শহরের হোটেল মালিকরাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বেঙ্গালুরু হোটেল অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ১০ মার্চ থেকে অনেক হোটেল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। চেন্নাইয়ের হোটেল সংগঠন আবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে, কারণ হাসপাতাল, আইটি পার্ক, ছাত্রাবাস ও যাত্রীদের জন্য প্রতিদিন খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগবে সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীদের উপর। মুম্বইয়ের বহু মানুষ প্রতিদিন হোটেলের খাবারের উপর নির্ভর করেন—বিশেষ করে ছাত্র, অফিসকর্মী ও হাসপাতালের রোগীদের জন্য খাবার সরবরাহে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ভারতের আর্থিক রাজধানীতে ‘ডাইনিং আউট’ সংস্কৃতিই সাময়িকভাবে থমকে যেতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প মহলের একাংশ।