আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে (Iran Israel US Conflicts) বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই ঘটনার পর থেকেই আরব দুনিয়ার উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
.jpg.webp)
নয়া বিবৃতি ইরানের
শেষ আপডেট: 7 March 2026 23:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East tension) মধ্যে সংঘাত কমানোর বার্তা দিয়েছিল ইরান (Iran War)। প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা (Iran apologises Neighbouring Countries) চেয়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, প্রতিবেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে আর কোনও হামলা চালানো হবে না, যদি না সেই দেশগুলির মাটি থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু হয় (Iran decides not to attack first further)। তবে এর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই আরও একটি বিবৃতি দিল তেহরান (Tehran)।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান (President Masoud Pezeshkian) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান (Iran) সব সময় প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ভিত্তিতেই এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা হয়, তাহলে দেশকে রক্ষা করার অধিকার তাদের রয়েছে। তাঁর দাবি, ইরান যে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান চালাচ্ছে তা শুধুমাত্র সেই সব জায়গা ও ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই, যেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ হানা হচ্ছে। তেহরান দাবি করেছে, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালায়নি। তাদের টার্গেট ছিল আরবদুনিয়ার মার্কিন সামরিক ঘাঁটি।
এর আগে এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, ইরান আর প্রতিবেশী দেশগুলির উপর হামলা চালাবে না। তবে যদি কোনও দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের উপর আক্রমণ করা হয়, সেক্ষেত্রে সেই জায়গাকে লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ করা হতে পারে।
গত সপ্তাহান্তে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার জেরে ইরানে (Iran Israel US Conflicts) বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই ঘটনার পর থেকেই আরব দুনিয়ার উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
“ইরান আত্মসমর্পণ করবে না”
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ আক্রমণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরান কোনওভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তাঁর কথায়, শত্রুরা যদি মনে করে ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করবে, সেই আশা তাদের কবর পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, উত্তেজনা কমানোর বার্তা দিলেও ইরান এখনও কঠোর অবস্থানেই রয়েছে।
মার্কিন-ইজরায়েলি হামলা এবং তার পাল্টা ইরানি আক্রমণের জেরে ইতিমধ্যেই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার বিমান বাতিল হয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি এবং অন্যান্য স্থাপনা - যেগুলি রয়েছে কাতার, বাহরিন, সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে।
ফলে গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়েই এখন তীব্র উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক বার্তা হয়তো উত্তেজনা কমানোর একটি চেষ্টা, তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর।