৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনেই দীর্ঘদিন ধরেই দেশের শাসক গোষ্ঠীর একাংশের কাছে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (Islamic Revolutionary Guard Corps) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানা যায়।

ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা
শেষ আপডেট: 9 March 2026 07:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জল্পনা ছিলই! সেদেশের বহু সংবাদমাধ্যম দাবিও করেছিল, কিন্তু কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়ায় বিষয়টি থমকে ছিল। অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটল, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর উত্তরসূরী হয়ে এলেন তাঁরই ছেলে মোজতবা খামেনেই (Iran new Supreme Leader Mojtaba Khamenei)। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে ইরানের তিন সদস্যের ধর্মীয় পরিষদ (Iran's Assembly of Experts)।
রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, বিশেষ বৈঠকে ভোটাভুটির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মধ্যরাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পরিষদ জানায়, মোজতবা খামেনেইকে ইরানের ইসলামিক রিপাবলিকের তৃতীয় সুপ্রিম লিডার (Supreme Leader of Iran) হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনেই দীর্ঘদিন ধরেই দেশের শাসক গোষ্ঠীর একাংশের কাছে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (Islamic Revolutionary Guard Corps) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানা যায়।
ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরানে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় (Iran Israel US War) খামেনেইর মৃত্যুর পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে থাকে, কে হবে ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার? একাধিক নাম সামনে এসেছিল, যার মধ্যে প্রথমে ছিলেন মোজতবা খামেনেই। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হলেও শিয়া ধর্মীয় পরম্পরায় বাবা-ছেলের ধারাবাহিকতা খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর হাতেই শেষপর্যন্ত ইরানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ অধিকার তুলে দেওয়া হল।
তবে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইতিমধ্যেই মন্তব্য করেছেন, নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচনে আমেরিকার মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, আমেরিকার অনুমোদন না থাকলে নতুন নেতা বেশিদিন ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না।
অন্যদিকে ইজরায়েলও (Israel Warning) আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার যেই হন না কেন, তাঁকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
মোজতবা খামেনেই কে?
১৯৬৯ সালে ইরানের মাশহাদ শহরে জন্ম মোজতবার। তরুণ বয়সে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নেন। পরে ক্বম শহরের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনা করে ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন।
তিনি কখনও সরাসরি সরকারে কোনও পদে ছিলেন না। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাবার কার্যালয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে বিভিন্ন মহলের দাবি।
সব মিলিয়ে, নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনেইয়ের দায়িত্ব নেওয়া ইরানের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মোজতবা খামেনেইয়ের সম্পত্তির মোট পরিমাণ (Mojtaba Khamenei wealth) নিয়ে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখে। ব্লুমবার্গের রিপোর্টে আরও দাবি করা হয় যে তিনি নাকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি ডলারের সম্পত্তি করেছেন, সুইস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর লন্ডনের এক বিলাসবহুল সম্পত্তির দামই প্রায় ১৩৮ মিলিয়ন ডলার। কিছু কিছু সূত্রের দাবি, সম্পত্তির নিরিখে নিজের বাবাকেও (Khamenei family assets) ছাপিয়ে গেছেন মোজতবা (Mojtaba Khamenei net worth)।