মোজতবা খামেনেইয়ের (Mojtaba Hosseini Khamenei) স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল, ইরানের প্রাক্তন সংসদ-অধিবেশক গোলাম আলি হাদ্দাদ-আদেলের মেয়ে। ২০০৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয়।

মোজতবা খামেনেই
শেষ আপডেট: 4 March 2026 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর (Iran’s late Supreme Leader Ayatollah Ali Khamenei) পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন তাঁর ছোট ছেলে মোজতবা হোসেনি খামেনেই (Iran supreme leader successor Mojtaba Khamenei)। ইরান সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসলেও দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এখন তিনিই।
কে এই মোজতবা খামেনেই?
মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলায় (Israel-US Strikes on Iran) নিহত খামেনেইর ছোট ছেলে মোজতবা (৫৬)। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হলেও শিয়া ধর্মীয় পরম্পরায় বাবা-ছেলের ধারাবাহিকতা খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়।
এমনকি শোনা যায়, খামেনেই নিজে যে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন, সেখানে ছেলের নাম ছিল না। তবে রিপোর্ট বলছে, ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ রেভল্যুশনারি গার্ড (IRGC)-এর চাপেই তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
মোজতবা খামেনেইয়ের সম্পত্তির মোট পরিমাণ (Mojtaba Khamenei wealth) নিয়ে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখে। ব্লুমবার্গের রিপোর্টে আরও দাবি করা হয় যে তিনি নাকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি ডলারের সম্পত্তি করেছেন, সুইস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আর লন্ডনের এক বিলাসবহুল সম্পত্তির দামই প্রায় ১৩৮ মিলিয়ন ডলার। কিছু কিছু সূত্রের দাবি, সম্পত্তির নিরিখে নিজের বাবাকেও (Khamenei family assets) ছাপিয়ে গেছেন মোজতবা (Mojtaba Khamenei net worth)।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ইউকের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ইরান সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা আমেরিকায় বিপুল পরিমাণে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, যা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।
পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন
মোজতবা খামেনেইয়ের (Mojtaba Hosseini Khamenei) স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল, ইরানের প্রাক্তন সংসদ-অধিবেশক গোলাম আলি হাদ্দাদ-আদেলের মেয়ে। ২০০৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। রিপোর্ট বলছে, ২০২৬ সালে মার্কিন-ইজরায়েল হামলায় জাহরা মারা গিয়েছেন। দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে বলে জানা গেলেও তাঁদের সম্পর্কে খুব কম তথ্যই প্রকাশ্যে আছে।
রাজনীতিতে ভূমিকা
মোজতাবা নিজে কোনও সরকারি পদে নেই, নির্বাচিত প্রতিনিধি নন। তবে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে তাঁর পর্দার আড়ালের প্রভাব বহুদিনের। ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন। সাম্প্রতিক হামলায় বহু শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ায় দেশের নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতেই সামনে এসেছেন মোজতাবা।
কেন তিনি আলোচনায়?
বর্তমানে দেশের ভিতর ও বাইরে, তাঁর সম্পদ, ক্ষমতা ও প্রভাব নিয়ে জোরালো নজরদারি চলছে। যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা না করা পর্যন্ত এই দাবি নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।