গত শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় (Israel-US Strikes) নিহত হয়েছেন খামেনেই। এরপর থেকেই আরবদুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

মোজতাব খামেনেই
শেষ আপডেট: 4 March 2026 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খামেনেইর মৃত্যুর (Khamenei Death) পর থেকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন তাঁর ছেলে। সূত্রের খবর, সেই মোজতবা খামেনেইকেই (Mojtaba Hosseini Khamenei) দেশের পরবর্তী সুপ্রিম লিডার (Supreme Leader of Iran) হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
ইরানের এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei) আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে। তাঁর নির্বাচন ঘিরেও একপ্রকার উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, কারণ ইরান (Iran) বরাবরই বংশানুক্রমে ক্ষমতা পাওয়ার বিরোধিতা করে নিজেদের প্রজাতান্ত্রিক কাঠামোকে তুলে ধরেছে। এখন বাবার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলের হাতে ক্ষমতা যাওয়ায় সেই নীতি নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
এমনকি খামেনেই নিজেও চাইতেন বংশ পরম্পরায় নয়, ধর্মীয় নেতাদের হাতে ইরানের ক্ষমতা তুলে দেওয়া হোক। তিনি তিন উত্তরসূরীর তালিকাও তৈরি করে গেছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই তালিকায় নাম ছিল না মোজতবা খামেনেই। তবে সেই তিনিই এখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, নতুন নেতাকে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছে Islamic Revolutionary Guard Corps। সংস্থাটি নাকি ধর্মীয় নেতাদের এই পরিষদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে মোজতবাকে সমর্থন করিয়েছে।
ইরানের প্রশাসন দাবি করেছে, গত শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় (Israel-US Strikes) নিহত হয়েছেন খামেনেই। এরপর থেকেই আরবদুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন নেতার আবির্ভাব রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
মোজতবা খামেনেই একজন মধ্যম পর্যায়ের ধর্মীয় আলেম এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের (Iran-Iraq War) সময় সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। বিশ্লেষকদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পর্দার আড়ালে উল্লেখযোগ্য প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তিনি সুপ্রিম লিডারের (Supreme Leader) অফিস দীর্ঘদিন পরিচালনা করেছেন বলেও মনে করা হয়। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে রেভল্যুশনারি গার্ড-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতা রাষ্ট্রের সব চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন। রাষ্ট্রীয় নীতি, সেনাবাহিনী, এমনকি শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ড- সব কিছুর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত তাঁর হাতেই থাকে।
এর আগে গত রবিবার আলিরেজা আরাফিকে (Alireza Arafi) ইরানের অন্তর্বর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল।
খামেনেইর মৃত্যুর (Khamenei Death) পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব কে সামলাবে, শূন্যস্থানে উপযুক্ত কাকে আনা হবে, এনিয়ে বিস্তর আলোচনা-জল্পনা হয়েছিল। অবশেষে সেই শূন্যতা সাময়িকভাবে পূরণ করতে তিন সদস্যের যে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ চালু হয়, সেখানে অন্তর্বর্তী বিচার বিশেষজ্ঞ হিসেবে জায়গা পান আলিরেজা আরাফি। তাঁর কয়েকদিনের মধ্যেই এবার পাকাপাকিভাবে খামেনেই পুত্রকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হল।
উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রস্তুতি
বিশ্লেষকদের ধারণা, খামেনেই-র বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে ইরান আগে থেকেই উত্তরাধিকার নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গত কয়েক বছরে তাঁর অসুস্থতা নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যায়। ক্যানসার বা অন্য কোনও জটিল রোগে তিনি ভুগছিলেন বলেও এক তথ্য ঘুরছিল। অবশ্য তাঁর বয়সও ৮৬ হয়ে যাওয়ায়, ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা অবশ্যম্ভাবী ছিল।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের একমাত্র অধিকার অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসের হাতে। এই সংস্থা জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় আলেমদের নিয়ে গঠিত এবং প্রতি আট বছরে একবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়।
প্রথম দিকে ইরানের শাসনব্যবস্থায় শর্ত ছিল, সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে তাঁকে ‘গ্র্যান্ড আয়াতোল্লা’ হতে হবে, যা ধর্মীয় মর্যাদার সর্বোচ্চ স্তর। কিন্তু আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেনির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলায়। নির্ধারিত উত্তরসূরিরা নানা কারণে সরে দাঁড়ান বা সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সংবিধান সংশোধন করে এমন ব্যবস্থা করা হয় যাতে অপেক্ষাকৃত নিম্নপদস্থ ধর্মীয় নেতা হলেও সর্বোচ্চ নেতা হতে পারেন।
এই পরিবর্তনের ফলেই আলি খামেনেই ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হন, যদিও তিনি তখন গ্র্যান্ড আয়াতোল্লা ছিলেন না। এ থেকেই বোঝা যায়, নিয়ম প্রয়োজনে বদলানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক বাস্তবতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।