ইজরায়েলি গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খামেনেইয়ের প্রতিদিনের রুটিন, তিনি কাদের সঙ্গে দেখা করেন, কোথায় থাকেন এবং বিপদের সময় কোথায় আশ্রয় নেন—সবই পর্যবেক্ষণ করছিল।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 3 March 2026 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার (Israel-US Strikes) প্রথম দফাতেই নিহত হয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Iran Supreme Leader Khamenei Death)। কীভাবে এটা সম্ভব হল, এনিয়ে প্রশ্ন ছিলই। অবশেষে সামনে এল এক অবাক করা তথ্য। এই অভিযানের জন্য হঠাৎ করে পরিকল্পনা করা হয়নি, কয়েক বছর ধরেই খামেনেইর প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখছিল ইজরায়েল।
ট্র্যাফিক ক্যামেরা (traffic camera), মোবাইল নেটওয়ার্ক (Mobile Network), খামেনেইর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত রুটিন (Khamenei Security Routine)- সবই নীরবে হ্যাক করে ফেলেছিল ইজরায়েলের গোয়েন্দারা (Israel Spy)। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, দীর্ঘ পরিকল্পনা আর নিখুঁত নজরদারির ফলেই সম্পন্ন হয় ভয়াবহ সেই হামলা, যা গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলকে যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরানের (Tehran) প্রায় সব ট্রাফিক ক্যামেরা বহু বছর ধরে ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ক্যামেরার ভিডিও ফিড এনক্রিপ্ট করে সরাসরি পাঠানো হত তেল আভিভ ও দক্ষিণ ইজরায়েলের সার্ভারে।
একটি ক্যামেরা ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ-সেখান থেকে দেখা যেত খামেনেইয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা কোথায় গাড়ি রাখেন, কারা কখন আসা-যাওয়া করেন, এমনকি কমপাউন্ডের ভেতরের দৈনন্দিন রুটিনও বোঝা যেত।
সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ও ইজরায়েলি গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খামেনেইয়ের প্রতিদিনের রুটিন, তিনি কাদের সঙ্গে দেখা করেন, কোথায় থাকেন এবং বিপদের সময় কোথায় আশ্রয় নেন- সবই পর্যবেক্ষণ করছিলেন। শুধু তিনিই নন, তাঁর আশপাশের শীর্ষ রাজনীতিক ও সামরিক নেতাদের গতিবিধিও নজরে রাখা হয়।
খামেনেই-হত্যা
প্রথমে পরিকল্পনা ছিল রাতের হামলার। পরে কৌশল বদলে সকাল ৬টার দিকে কমপাউন্ডে চালানো হয় ভয়ঙ্কর বিমান হামলা। ইজরায়েলি জেট তিনটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে ৬০ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানে। নিহত হন খামেনেই-সহ প্রায় ৪০ জন শীর্ষ নিরাপত্তা-কর্মকর্তা।
২০২৪ সালে লেবানন ও সিরিয়ায় হিজবুল্লা যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে ইজরায়েল ব্যবহার করেছিল বিস্ফোরক-যুক্ত পেজার ও ওয়াকিটকি। ‘গ্যাব্রিয়েল’ নামে এক এজেন্ট জানিয়েছিলেন, হিজবুল্লাকে নতুন পেজার ব্যবহারে রাজি করাতে তারা ভুয়ো বিজ্ঞাপন পর্যন্ত ব্যবহার করে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর (Khamenei Death) পরই আরবদুনিয়ার পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। এরপরই আমেরিকা বিবৃতি দিয়ে জানায়, ইরানে ১,২৫০টির বেশি জায়গায় টার্গেট করে হামলা হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে ১১টি ইরানি জাহাজ, ডুবে গেছে অন্তত ১০টি। কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলায় নিহত ৬ মার্কিন সেনা।
যুদ্ধের ফলে ইরান, লেবানন, ইজরায়েল- তিন দেশেই মৃত্যু বাড়ছে। বিমান চলাচল ব্যাহত, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ কমে যাওয়ায় জ্বালানির দামও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী।