সোমবার রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা। জমা জলে খোলা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু অন্তত ৮ জনের। মুখ্যমন্ত্রীর আঙুল সিইএসসি-র দিকে, ক্ষতিপূরণের দাবি হাইকোর্টে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু অন্তত ৮ জনের।
শেষ আপডেট: 23 September 2025 14:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা আবার ডুবল, আর তার সঙ্গে ডুবে গেল আটটি প্রাণ। সোমবার রাতভর মুষলধারে বৃষ্টিতে শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ভোর থেকে বিভিন্ন জায়গায় জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত আটজনের। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফল বিক্রেতা, দৈনিক যাত্রী, সাধারণ পথচারী—কারও মৃত্যু হয়েছে খোলা তারে হাত লেগে, কারও আবার রাস্তার বিদ্যুতের খুঁটির সংস্পর্শে এসে।
প্রথম খবর আসে নেতাজিনগর থেকে। ভোরে সাইকেলে করে ফল বিক্রেতা বাবু কুণ্ডু (৭০) জলমগ্ন রাস্তায় পড়ে যান, বিদ্যুতের খুঁটিতে হাত লাগতেই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু। কালিকাপুর মোড়ের কাছে একইভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান বছর পঞ্চাশের এক ব্যক্তি। গড়িয়াহাটের বালিগঞ্জ প্লেস, ইকবালপুরের হোসেন সাহ রোড ও বেনিয়াপুকুরেও উদ্ধার হয়েছে মৃতদেহ। চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজ সংলগ্ন জলাবদ্ধ এলাকায় এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবককে বিদ্যুতের ছোবলে প্রাণ হারাতে হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসি-কে। তাঁর কথায়, “এখানে শুধু ব্যবসা করছে, কিন্তু আধুনিকীকরণের কাজ করছে রাজস্থানে। কলকাতায় কেন করছে না?” তিনি মৃতদের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংস্থার কাছে। পাশাপাশি, হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে একাধিক সংগঠন। অভিযোগ—প্রশাসন, পুরসভা ও বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থা অতীতের দুর্ঘটনা থেকেও শিক্ষা নেয়নি।
মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে একাধিক জায়গায় ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গড়িয়া কামদাহারিতে ৩৩২ মিলিমিটার, যোধপুর পার্কে ২৮৫ মিলিমিটার, কালীঘাটে ২৮০ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড। ফলে শহরের প্রধান সড়কগুলো হাঁটু থেকে কোমর সমান জলে ডুবে যায়। রেল-মেট্রো পরিষেবা ভেঙে পড়ে—হাওড়া-শিয়ালদহ ডিভিশনে একাধিক লোকাল বাতিল, কলকাতা মেট্রোর কয়েকটি অংশে পরিষেবা বন্ধ।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, “নদীতে টগমগ জল, খাল ভরা। ফলে শহর থেকে জল ফেলতে গেলেই তা আবার ব্যাক ফ্লো হয়ে ফিরে আসছে।” প্রশাসনের ভাষায়, গঙ্গার জোয়ার কেটে না যাওয়া পর্যন্ত শহরের জল নামানো সম্ভব নয়।
পুজোর মুখে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি কলকাতাকে অস্থির করে তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী আজ থেকেই সরকারি স্কুলে আগাম ছুটি ঘোষণা করেছেন এবং একাধিক পুজো উদ্বোধনের কর্মসূচি বাতিল করেছেন।
শহরবাসীর ক্ষোভ তীব্র— প্রতি বর্ষাতেই জলাবদ্ধতার একই ছবি, আর এ বছর সেই সঙ্গে মৃত্যু। আট প্রাণহানি যেন নগর পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার নগ্ন প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।