সিইএসসি-র পরিকাঠামোকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বলেছেন, মানুষের মৃত্যুর দায় তাদেরই নিতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখনই জরুরি ভিত্তিতে কর্মীদের নামাতে হবে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 23 September 2025 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘জমা জলের কারণে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে। জল নেমে গেলেই পরিষেবা চালু করে দেওয়া হবে।’ কলকাতার (Kolkata Heavy Rain) বেশ কিছু এলাকার কারেন্ট অফ (Load Shedding) রেখে এই মর্মেই মেসেজ পাঠিয়েছে বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসি (CESC)।
সোমবার রাত থেকে টানা পাঁচ ঘণ্টার বৃষ্টিতে মঙ্গলবার বিপর্যস্ত প্রায় গোটা কলকাতা (Kolkata Rain)। কোথাও কোমর তো কোথায় হাঁটু অবধি জল জমে আছে। মঙ্গলবার সকালে নেতাজিনগরে এই জমা জলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন একজন ফল বিক্রেতা। তাঁকে নিয়ে এখনও অবধি শহরে সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ঠিক সেই কারণেই আর যাতে কোনও প্রাণ না যায়, তাই মানুষের সুরক্ষার কথা ভেবে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। শুধু সিইএসসি নয়, ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকট্রিক সাপ্লাই বোর্ডও কয়েকটা জায়গায় কারেন্ট অফ রেখেছে।
এই আবহে সরাসরি সিইএসসি-র পরিকাঠামোকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বলেছেন, মানুষের মৃত্যুর দায় তাদেরই নিতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখনই জরুরি ভিত্তিতে কর্মীদের নামাতে হবে। এখানে ব্যবসা করছে, আর আধুনিকীকরণের কাজ করছে রাজস্থানে। কলকাতায় কেন করছে না? বলতে বলতে আমার মুখ ব্যথা হয়ে গিয়েছে।”
এদিন সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) জানান, “প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা পুরসভার নেই। এবারের বৃষ্টি সম্পূর্ণ অ্যাবনর্মাল-অস্বাভাবিক।”
মেয়রের কথায়, “এরকম মেঘভাঙা বৃষ্টি (Kolkata Rain Today) আমি কোনওদিন কলকাতায় দেখিনি। আমি এই শহরেই জন্মেছি, বড় হয়েছি। খবরের কাগজে পড়েছিলাম উত্তরাখণ্ড বা কাশ্মীরে এভাবে বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কলকাতায় ৩০০ মিমির বেশি বৃষ্টি এর আগে হয়নি।”
এদিন সকালে প্যান্ট গুটিয়ে, ফ্রেইড পেরির পোলো শার্ট পরে পুরসভায় পৌঁছে যান মেয়র। তার সাংবাদিকদের বলেন, “বৃষ্টি ও নিম্নচাপে সমুদ্র উত্তাল হয়ে রয়েছে। নদীতে টগমগ করছে জল। খাল উপচে পড়ছে। ফলে পুরসভা থেকে ড্রেনেজ সিস্টেমে জল ফেলতে গেলেও তা ব্যাক ফ্লো হয়ে আবার শহরে ঢুকে পড়ছে। জল খালে না গেলে শহর থেকে জল নামবে কী করে!”
তিনি জানিয়েছেন, দুপুর দেড়টায় হুগলি নদীতে বড় বান আসার কথা। তাতে জোয়ারের জল উঠবে আবার। সেটা কেটে গেলে তবেই কলকাতার জল নামানো সম্ভব হবে। মোট কথা, বৃষ্টি না হলেও গোটা শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগবেই।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বালিগঞ্জ এলাকায়— ২৯৫ মিলিমিটার। এর পরেই রয়েছে মুকুন্দপুর (২৮০ মিমি), গড়িয়া (২৭০ মিমি), যাদবপুর (২৫৮ মিমি), গড়িয়াহাট (২৬২ মিমি) ও কসবা (২৪৬ মিমি)। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে উত্তর কলকাতার সাউথ দমদমে, মাত্র ৬১ মিমি।
অর্থাৎ, সোমবার রাত থেকে কলকাতায় যে হারে বৃষ্টি হয়েছে তা হালফিলে বেনজির।