রাত থেকে টানা বৃষ্টি, তার জেরে জল থইথই কলকাতা। ইতিমধ্যে জলমগ্ন কলকাতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। তাই সকলকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

ফিরহাদ হাকিম
শেষ আপডেট: 23 September 2025 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একই হয়তো বলে বিপর্যয়! শেষ কবে এমন বৃষ্টি দেখেছে কলকাতাবাসী (Kolkata) তা কেউ মনে করতে পারছেন না। বেহালা থেকে শুরু করে নিউ আলিপুর, চেতলা, কালীঘাট... কোথাও হাঁটু জল তো কোথাও বুক-জল (Waterlogged Kolkata)। কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম (Mayor Firhad Hakim) তো নিজের এলাকার জল দেখেই বিস্মিত হয়ে গেছেন। তাঁর পরামর্শ, 'আজ কেউ বাড়ি থেকে বেরোবেন না।'
রাত থেকে টানা বৃষ্টি, তার জেরে জল থইথই কলকাতা। ইতিমধ্যে জলমগ্ন কলকাতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। তাই সকলকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। শহরের এহেন পরিস্থিতি দেখে তিনি কার্যত অবাক। বলেছেন, ''আমি কলকাতায় এত বৃষ্টি এর আগে দেখেনি। ভয়াবহ পরিস্থিতি।''
এমন কথা বলে কার্যত হাত তুলে নিয়েছেন মেয়র। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, গঙ্গায় জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে, নিকাশি খালগুলিতেও জল কানায় কানায় ভর্তি। ফলে খালে জল ফেলা হলেও তা আবার শহরের মধ্যেই ফিরে আসছে। বৃষ্টি না কমলে তিনি স্পষ্টত বলতেই পারবেন না যে জল আদৌ কখন নামানো যাবে। তবে মেয়র জানান, দুপুর দেড়টায় বড় বান আসবে। সেই বাণ কেটে গেলে তবেই জল নামানো সম্ভব হবে। আগে জল খালে যাবে, খাল থেকে নদীতে, তারপর সমুদ্রে। এর বাইরে কোনও উপায় নেই।
কলকাতা পুরসভা আগেই জানিয়েছে, একটুও যদি বৃষ্টি না হয়, তাতেও অন্তত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লেগে যাবে শহরের পরিস্থিতি ঠিক হতে। তার উপর আরও মর্মান্তিক খবর হল, কলকাতাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট (Kolkata Death) হয়ে মারা গেছেন অন্তত সাত জন। যে কারণে সাবধানী হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, জল না নামা পর্যন্ত সুরক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘরবন্দি মানুষজন বলাবলি করছে, এ যেন সেই পুরনো বন্যার ছবি।
ইতিমধ্যে জানা গেছে, দক্ষিণবঙ্গের কমবেশি সবজেলাই আগামী সাত দিন জুড়ে থাকবে বৃষ্টিপ্রবণ। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) সর্বশেষ বুলেটিন অনুসারে, কলকাতা সহ প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর তথা সোমবার সকাল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত।