কলকাতা জুড়ে রেকর্ড পরিমাণ ১,৪২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গোটা শহর সকাল থেকে একেবারে জবুথবু হয়ে বসে গিয়েছিল।

দুর্গাপুজো উপলক্ষে আলোর খেলা একটি অত্যাবশ্যক প্রথা।
শেষ আপডেট: 23 September 2025 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একরাতের বৃষ্টিতেই পুজোর কয়েকদিন আগে ডুবল মহানগরী কলকাতা। কলকাতা জুড়ে রেকর্ড পরিমাণ ১,৪২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গোটা শহর সকাল থেকে একেবারে জবুথবু হয়ে বসে গিয়েছিল। অফিস ও নিত্যযাত্রীরা বটেই, সবথেকে বড় মুশকিলে পড়েছে বড় বড় পুজো প্যান্ডেলগুলো। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধন করা বেশ কয়েকটি পুজো প্যান্ডেল দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, চলতি পরিস্থিতিতে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্যান্ডেল, আলো ও বিদ্যুৎ সংযোগের দিকে বদল আনা হচ্ছে প্রায় প্রতিটি বড় পুজোয়।
পুজো হল আলোর উৎসব। তাই দুর্গাপুজো উপলক্ষে আলোর খেলা একটি অত্যাবশ্যক প্রথা। কিন্তু, সোমবার ও মঙ্গলবারের ভোররাতে যে পরিমাণ বৃষ্টির ঝাপটা সহ্য করতে হয়েছে, তাতে অধিকাংশ পুজো কমিটিই বিদ্যুৎ সংযোগের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে, যাতে জল জমলেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট না হয় কেউ। শেষ মুহূর্তে এসেও আমূল বদলানোর চেষ্টা চলছে বিদ্যুৎ সংযোগ।
কলকাতার বহু অলিগলি ডুবে যাওয়ায় আলোর গেট ও আলোকসজ্জাগুলির অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন পুজো কর্তারা। এছাড়াও বেশ কয়েকটি পার্কে যে পুজোগুলি হয়, সেখানে জল জমে কাদা কাদা হয়ে গিয়েছে। বহু প্যান্ডেলের ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে দেবীপ্রাঙ্গণ কাকভেজা হয়ে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি থিম প্যান্ডেল জলে ভিজে থিমের বদল ঘটে গিয়েছে। হাতে আর মাত্র চারটে দিন, তাই এদিন বেলার দিকে রোদ উঠতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্যান্ডেল, প্রতিমা, আলো ও বিদ্যুতের নতুন করে সংশোধনপর্ব চালু হয়ে গিয়েছে। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, প্রতিবছর পুজোর সময় ২৪ ঘণ্টা এমনিতেই কাজ করতে হয়। কিন্তু, এই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে তা কী করে সম্ভব হবে, বোঝা যাচ্ছে না।
দেশপ্রিয় পার্ক পুজো কমিটির এক কর্মকর্তা সুদীপ্ত কুমার দ্য টেলিগ্রাফকে জানান, আমরা ১৭ ফুট চওড়া একটি উঁচু দর্শক যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করছি। ঢোকা ও বেরনো পর্যন্ত এই পথ থাকবে। বুধবার এই পুজোর উদ্বোধনের কথা রয়েছে। তারপরেই বৃষ্টি আটকানোর সমস্ত ব্যবস্থা তৈরি করে ফেলা হবে। আমাদের আশা বৃষ্টি অসুর পুজোর আনন্দ মাটি করতে পারবে না। যদিও আমরা সবথেকে খারাপটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছি।
ম্যাডক্স স্কোয়ারের তরফে অনিমেষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা প্যান্ডেলের ভিতরে পিভিসি চাদর বসাচ্ছি। যাতে প্যান্ডেল সজ্জার কোনও ক্ষতি না হতে পারে। মাঠে ঢোকার চারটি গেট থেকেই আলাদা রাস্তা তৈরি হচ্ছে, যাতে দর্শকদের কাদা মাড়িয়ে আসতে না হয়। ভোগ রান্নার জায়গা থেকে ঠাকুরঘর পর্যন্ত আচ্ছাদন দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভক্তদের ভোগ নিয়ে আসতে ঝক্কি পোহাতে না হয়।
দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে টালা বারোয়ারি পুজো কমিটি ৬ হাজার বর্গফুটের একটি মঞ্চ বেঁধেছে, যেটা প্রায় একফুট উঁচু। গোটা মণ্ডপটি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান অভিষেক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, আমরা এবছরের বর্ষার কথা মাথায় রেখে এমন রং ব্যবহার করে যা গলে না যায়। তবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও সংযোগকে সুষ্ঠু রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।