মেয়র স্মৃতিচারণা করে বলেন, “এই রকম জল আমি ছোটবেলা থেকে কোনওদিন দেখিনি। ১৯৭৮ সালে বন্যা হয়েছিল, তখন এ রকম দৃশ্য দেখেছিলাম। তারপর আর দেখিনি। এবার আদিগঙ্গাও পুরো ভরে গিয়েছে।”

ফিরহাদ হাকিম।
শেষ আপডেট: 23 September 2025 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাতভর টানা বৃষ্টিতে (Kolkata Rain Today) কার্যত অচল হয়ে পড়েছে কলকাতা। শহরের অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন। নাগরিকদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানালেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছে, তবে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব নয়।
মেয়রের কথায়, “এরকম মেঘভাঙা বৃষ্টি আমি কোনওদিন কলকাতায় দেখিনি। আমি জন্মেছি, বড় হয়েছি এই শহরে। খবরের কাগজে পড়েছিলাম উত্তরাখণ্ড বা কাশ্মীরে এভাবে বৃষ্টি হয়। কিন্তু কলকাতায় ৩০০ মিমির বেশি বৃষ্টি এর আগে কখনও দেখিনি।”
কেন নামছে না জল?
মেয়র ব্যাখ্যা করেন, সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে নদীর জলস্তর ফুলে উঠেছে। “নদীতে টগমগ জল, ক্যানেলগুলো ভরে আছে। আমরা পুরসভার ড্রেন থেকে জল ফেলতে গেলেই ব্যাক ফ্লো হয়ে তা আবার শহরে ফিরে আসছে। দুপুর দেড়টায় বড় বান আসবে। সেই বান কেটে গেলে তবেই জল নামানো সম্ভব হবে। আগে জল খালে যাবে, খাল থেকে নদীতে, তারপর সমুদ্রে। এর বাইরে কোনও উপায় নেই,” বলেন ফিরহাদ।
তিনি আরও জানান, কিছু এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার খবর এসেছে। তাই নাগরিকদের অনুরোধ করে বলেন, “আজ কেউ ঘর থেকে বেরোবেন না। বৃষ্টির জলে লুকিয়ে থাকা তার বা বিদ্যুতের খুঁটি প্রাণঘাতী হতে পারে।”
মেয়রের কথায়, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে গড়িয়া এলাকায়। ওখানে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষত পুরসভার ১০৮ ও ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে ড্রেনেজ সিস্টেম না থাকায় সেখানে অবস্থা সবচেয়ে খারাপ বলে জানান তিনি।
মেয়র বলেন, “আমাদের পাইপ সিস্টেম ঘণ্টায় ২০ মিমি জল নামানোর ক্ষমতা রাখে। কিন্তু ৩০০ মিমি জল নামাতে গেলে সেটাকে নদী ও সমুদ্রে পৌঁছতে সময় লাগবেই। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব নয়। এবারের বৃষ্টি একেবারেই অস্বাভাবিক।”
পুজো কমিটির সামনে জমে থাকা প্লাস্টিক ও আবর্জনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়র। তাঁর বক্তব্য, “খাল-গালিপিট প্লাস্টিকে ভরে থাকলে জল নামবে কী করে? আমরা সেগুলো খোলার নির্দেশ দিয়েছি।”
মেয়র স্মৃতিচারণা করে বলেন, “এই রকম জল আমি ছোটবেলা থেকে কোনওদিন দেখিনি। ১৯৭৮ সালে বন্যা হয়েছিল, তখন এ রকম দৃশ্য দেখেছিলাম। তারপর আর দেখিনি। এবার আদিগঙ্গাও পুরো ভরে গিয়েছে।”
ফিরহাদ হাকিম জানান, রাস্তায় বসবাস করা দরিদ্র মানুষদের জন্য স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরসভার পক্ষ থেকে খাবারদাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তাঁর কথায়, যদি আর নতুন করে বৃষ্টি না হয়, তবে মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই শহর থেকে জল নামানো সম্ভব হবে। তবে নাগরিকদের তিনি আবারও সাবধান করে দেন—“প্রকৃতিকে রুখে দেওয়া যায় না, আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে।”