সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ খানিক কমেছে ঠিকই, কিন্তু কলকাতায় মাঝেমধ্যে ঘটে যাওয়া শ্লীলতাহানি বা রাতের পথে বিপদে পড়ার ঘটনাগুলি উদ্বিগ্ন করছে শহরবাসীকে (pink booth in kolkata)।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 1 December 2025 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি ইএম বাইপাসে (EM Bypass case) চলন্ত গাড়ির ভিতরে এক মহিলাকে টেনে নিয়ে গিয়ে মাদক মেশানো মদ খাওয়ানো, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ সামনে আসে (crime against women)। রাতের শহরে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ (women safety at night), তারপরই বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা পুলিশ মহলে।
শহরে চালু হতে চলেছে ২০টি ‘পিঙ্ক বুথ’ (Kolkata Pink Booths), যেখানে ডিউটিতে থাকবেন শুধুই মহিলা পুলিশকর্মীরা (women led Pink booth)। যে কোনও বিপদের মুহূর্তে মহিলাদের পাশে থাকবে বিশেষ এই পিঙ্ক টিম (pink team kolkata)।
শহরের ১০টি ডিভিশনে ২০ বুথ, রাতভর নজরদারি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার ১০টি ট্রাফিক ও পুলিশ ডিভিশনে দু’টি করে পিঙ্ক বুথ স্থাপন করা হবে। শহরের ব্যস্ততম ও জরুরি মোড়ে হবে এই বুথগুলি।
প্রতিটি বুথে থাকবেন এক মহিলা অফিসার-ইন-চার্জ ও তাঁর নেতৃত্বে ৩ থেকে ৫ জন মহিলা পুলিশকর্মী। রাতভর থাকবে নজরদারি ও টহলদারি।
সরকারি সূত্রে খবর, 'কোনও মহিলা যদি মনে করেন তিনি বিপদে আছেন, সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন সেখানে। তাঁরাই সংশ্লিষ্ট থানা এবং পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ - সবই করবে পিঙ্ক বুথের টিম।'
বাড়ি ফিরতে সমস্যা হলে, গাড়ির ব্যবস্থা করবে পিঙ্ক টিম
যদি কোনও মহিলা গভীর রাতে বাড়ি ফেরার জন্য নিরাপদ কোনও ব্যবস্থা না পান বা গাড়ি না পান, তবে পিঙ্ক বুথের টিম সরাসরি ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করবে, যাতে তিনি নিরাপদে বাড়ি পৌঁছতে পারেন।
প্রতিটি থানায় থাকবেন মহিলা নোডাল অফিসার
পুলিশের উদ্যোগ এখানেই থেমে নেই। অনেক সংবেদনশীল মামলায় মহিলারা পুরুষ অফিসারদের কাছে বিস্তারিত বলতে সংকোচ বোধ করেন। সেই কারণেই প্রতিটি থানায় একজন মহিলা নোডাল অফিসার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত। তাঁরা -
পটভূমিতে তাজা ঘটনা - ইএম বাইপাসে মহিলার উপর নৃশংস অত্যাচার
২৮ নভেম্বর রাত। ইএম বাইপাসের আম্বেদকর ব্রিজের কাছে বাস ধরার অপেক্ষায় ছিলেন এক মহিলা। সেই সময় হঠাৎই একটি গাড়ি থেমে তাঁকে ‘লিফট’ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। পরে অভিযোগ, মদে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে খাওয়ানো হয় তাঁকে, চলন্ত গাড়ির ভিতরে চলে শ্লীলতাহানি ও মারধর। পরে তাঁকে ময়দান এলাকায় ফেলে রেখে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।
পুলিশ ওই মহিলাকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর গ্রেফতার হয় গার্ডেনরিচের বাসিন্দা আলতাফ আলম (২৪)। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
শহরবাসীর আস্থা ফেরাতেই পুলিশের এই বড় উদ্যোগ
এনসিআরবি-র সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ খানিক কমেছে ঠিকই, কিন্তু কলকাতায় মাঝেমধ্যে ঘটে যাওয়া শ্লীলতাহানি বা রাতের পথে বিপদে পড়ার ঘটনাগুলি উদ্বিগ্ন করছে শহরবাসীকে।
তাই কলকাতা পুলিশের মতে, “নারীদের জন্য রাস্তাকে নিরাপদ করতে বিশেষ দল, নিরাপদ জোন ও নিরবচ্ছিন্ন টহলদারি - এখন সময়ের দাবি।”