ডাঃ দীপ্তাংশু জানান, “ফরসেপ দিয়ে শ্বাসনালীর ভিতর থেকে আলপিনটি টেনে বের করে আনা হয়। যদি পিনটি আরও একটু এগিয়ে ফুসফুসে ঢুকে যেত তবে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হত।”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 5 December 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেলার ছলে ভয়াবহ বিপদ। মুখে নেওয়া আলপিন আচমকাই গিলে ফেলেছিল সাত বছরের এক নাবালিকা। মুহূর্তে পরিস্থিতি সঙ্কটজনক হয়ে ওঠে, কারণ আলপিনটি খাদ্যনালী নয়, সোজা ঢুকে যায় শ্বাসনালীর ভিতর। কাশি, বুকে ব্যথা শুরু হতেই পরিবারের সদস্যরা আর সময় নষ্ট করেননি। দ্রুত নিয়ে আসেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Kolkata medical college)। ঠিক এই তৎপরতাই শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে দিল ছোট্ট মেয়েটির প্রাণ (saved the 7-year-old child in a 15-minute surgery)।
হাসপাতালের ইএনটি বিভাগে নিয়ে যাওয়া মাত্রই চিকিৎসকেরা এক্স-রে করে দেখেন—পিনটি বিপজ্জনকভাবে আটকে রয়েছে গলার শ্বাসনালীর ভিতরে। ইএনটি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডাঃ দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় বলেন, “ওর বয়স প্রায় ৭ বছর। বাড়ি হাওড়ার শিবপুরে। দুপুর দু’টো নাগাদ আলপিন মুখে নিয়ে খেলার সময়ে সেটাই গিলে ফেলে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার কাশি শুরু হয়, বুকে ব্যথা বাড়তে থাকে। এক্স-রে দেখে বুঝি গুরুতর অবস্থা—এক মুহূর্ত দেরি করলে প্রাণ সংকট তৈরি হতে পারত।”
ঝুঁকি বড় দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অস্ত্রোপচারের। শিশুটিকে সম্পূর্ণ অচেতন করে শুরু হয় অপারেশন। ডাঃ দীপ্তাংশু জানান, “ফরসেপ দিয়ে শ্বাসনালীর ভিতর থেকে আলপিনটি টেনে বের করে আনা হয়। যদি পিনটি আরও একটু এগিয়ে ফুসফুসে ঢুকে যেত তবে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হত।”
মাত্র ১৫ মিনিটে সম্পূর্ণ হয় অপারেশন। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ, তাকে সাধারণ শয্যায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
অস্ত্রোপচারের দলে ছিলেন ইএনটি বিভাগের জুনিয়র রেসিডেন্ট ডাঃ শুভজিৎ মুখোপাধ্যায় ও সোমদত্তা ঘাঁটী। অ্যানাস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডাঃ রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল ও ডাঃ সুমিত গোস্বামী।
এক ছোট্ট অসতর্কতা যে কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারত, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং দক্ষ হাতের জোরে প্রাণে বাঁচল সাত বছরের শিশুটি।