আইপ্যাকের অফিসে হানা এবং সেই ঘটনায় তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ-সহ একাধিক ইস্যুতে নবান্নের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করতে চেয়ে প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীরা।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 29 January 2026 14:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির নবান্নের সামনে ধর্নার (BJP News) আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে আপাতত নবান্নের সামনে কোনও ধর্না কর্মসূচির অনুমতি পেল না পদ্মশিবির (Nabanna News)।
আইপ্যাকের অফিসে হানা এবং সেই ঘটনায় তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ-সহ একাধিক ইস্যুতে নবান্নের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করতে চেয়ে প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীরা। তবে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ নবান্নের সামনে ধর্না কর্মসূচির অনুমতি দেননি।
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানায় বিজেপি। মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছিল ডিভিশন বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ রায় ঘোষণা করা হয়। যেখানে সিঙ্গল বেঞ্চের সিদ্ধান্তই বহাল রাখল ডিভিশন বেঞ্চ।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নবান্নের সামনে অবস্থানে বসতে চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ড নয়, সরাসরি নবান্নের গেটের সামনে বসেই তিনি প্রতিবাদ জানাতে চান। ইডির তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ ও বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদেই এই অবস্থান কর্মসূচি বলে জানান তিনি।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের পর্যবেক্ষণ ছিল, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করার অধিকার সকলেরই রয়েছে, তবে নবান্ন একটি উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চল। সেখানে কর্মসূচি করতে না-দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের যে যুক্তি, তা গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করেছে আদালত।
তবে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা নয়, বিকল্প জায়গায় কর্মসূচির অনুমতি দেয় হাইকোর্ট। নির্দেশ অনুযায়ী, নবান্ন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে বিজেপি (BJP News) ধর্না দিতে পারবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ওই কর্মসূচি চলতে পারবে বলে জানানো হয়।
হাইকোর্ট বিজেপির ধর্নার উপর একাধিক শর্তও আরোপ করে। জানায়, কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন সর্বাধিক ৫০ জন বিধায়ক। ধর্নার ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বা যান চলাচলে কোনও বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। উসকানিমূলক বক্তব্য, গালিগালাজ বা অশালীন ভাষা ব্যবহার নিষিদ্ধ। মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং শব্দদূষণ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মানতে হবে। কমপক্ষে ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও মোবাইল নম্বর আগাম পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে বলে জানায় হাইকোর্ট।
এই নির্দেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, নবান্নের সামনে ‘বুক ফুলিয়ে’ ধর্না দিতে চান তাঁরা। সিঙ্গল বেঞ্চের ওই রায়ের বিরুদ্ধেই ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি। যদিও সেখানেও ধাক্কা খেলেন তাঁরা।