বিশ্বকর্মা পুজোয় বিদ্যাসাগর সেতুতে ঘুড়ির মাঞ্জার সুতোয় বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। নবান্নের নির্দেশে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে পুলিশ। বাইক আরোহীদের সতর্ক করে বড় বিপদ এড়াচ্ছেন তারা।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 17 September 2025 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকর্মা পুজো মানেই আকাশে রঙিন ঘুড়ির মেলা। মোবাইলে আসক্ত জেনারেশনের কাছেও এ এক অন্যরকম দিন। দুদিন আগে থেকে ঘুড়ি কেনার ভিড় আর বুধবার সকাল থেকে ভোকাট্টার আওয়াজ ভেসে আসা। সব মিলিয়েই তো বিশ্বকর্মা ডে। তবে, ঘুড়ির জন্যই আজকাল ভোকাট্টা হচ্ছে মানুষ। ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দ কখন যে কোন পরিবারে সবচেয়ে দুঃখের গল্প বয়ে আনছে, তা জানতেই পারছে না কেউ।
এই মাঞ্জা কাটা সুতো সেকেন্ড হুগলি ব্রিজের টোল এলাকায় এখন বিপদের বার্তা নিয়ে আবির্ভাব হয়েছে। উড়ে আসা সুতো বাইক আরোহীদের গলা কিংবা শরীরে জড়িয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। মৃত্যুও হচ্ছে অনেকের।
এই বিপদ ঠেকাতেই নড়েচড়ে বসেছে নবান্ন। টোল প্লাজায় বাড়তি নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ। কোথাও ঘুড়ির সুতো কেটে রাস্তায় পড়তে দেখলেই বাইক আরোহীদের থামানো হচ্ছে। সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে, 'ঘুড়ির মাঞ্জা কেটে গেছে, একটু দাঁড়ান।'
এতে সাময়িক যানজট তৈরি হলেও বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে। বাঁচছে নিরীহ প্রাণ।
এক বাইক আরোহী বললেন, 'আমার সামনেই একটা ঘুড়ির মাঞ্জা পড়ে গিয়েছিল। একটুর জন্য রক্ষা পেলাম। না হলে গলায় গুরুতর আঘাত লাগত।' আরেকজন জানান, ঘুড়ির মাঞ্জায় দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। চারিদিকের খবর শুনে যতোটা আতঙ্কে ছিলেন, তা খানিকটা হলেও কমেছে।
আজ দুপুরেই চিনা মাঞ্জার ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন এক প্রাক্তন সেনাকর্মী। ব্যারাকপুরের কাছে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উপর দুর্ঘটনাটি হয়েছে।
বাইকে করে এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছিলেন ওই প্রাক্তন সেনাকর্মী। আচমকা উড়ে আসা চিনা মাঞ্জার ধারালো সুতো তাঁর গলায় জড়িয়ে যায়। মুহূর্তে কেটে যায় গলা, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান বাইক-সহ। স্থানীয়রা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিক প্রাণ কেড়েছে এই চিনা মাঞ্জা। অভিযোগ, তবুও তার আমদানি ও বিক্রি বন্ধে নেই কোনও দৃঢ় পদক্ষেপ। কলকাতা হাইকোর্টও অতীতে এই মাঞ্জা নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে, দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে পুলিশি তৎপরতার পর অভয় পাচ্ছেন বাইক আরোহীরা। এই পদক্ষেপের প্রশংসাও করছেন অনেকে।