ঘটনার পরই এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ঠিক কোথা থেকে উড়ছিল ঘুড়ি।

যশ গোস্বামী (মৃত ব্যবসায়ী)
শেষ আপডেট: 29 June 2025 11:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাইনিজ মাঞ্জায় প্রাণ গেছে বহু মানুষের। কলকাতার বুকেই কত ঘটনা হয়েছে। চাইনিজ মাঞ্জার দপট কমাতে এ শহরে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়। উড়ালপুলের আশপাশে এমনভাবে রেলিং দেওয়া হয় যাতে বাইক আরোহীদের গায়ে মাঞ্জা এসে না পড়ে। তারপর থেকে কলকাতায় চাইনিজ মাঞ্জায় দুর্ঘটনার দাপট কমলেও বাড়বাড়ন্ত কমেনি রাজধানীতে। শুক্রবার গলায় মাঞ্জা লেগে মৃত্যু হল এক তরুণ ব্যবসায়ীর।
সন্ধেয় রাজধানীর ঝাঁসি রানি উড়ালপুল দিয়ে স্কুটার চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ২২ বছরের যশ গোস্বামী। আচমকাই উড়ন্ত ঘুড়ির ধারালো মাঞ্জা এসে তাঁর গলা কেটে দেয়। ব্যালেন্স হারিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, করোল বাগে ই-রিকশার যন্ত্রাংশের দোকান চালাতেন যশ। ঘটনার সময় তিনি একাই স্কুটার চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। উড়ালপুলে উঠতেই তাঁর গলায় জড়িয়ে পড়ে চাইনিজ মাঞ্জা। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
ঘটনার পরই এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ঠিক কোথা থেকে উড়ছিল ঘুড়ি।
ভাইয়ের মৃত্যুর পর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন যশের দাদা অমিত গোস্বামী। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, 'এটা খেলা হতে পারে না। প্রতি বছর কতজন প্রাণ হারাচ্ছে চাইনিজ মাঞ্জায়। সরকার কী করছে? নিষেধাজ্ঞা শুধু কথার কথা। আমার ভাই ছিল আমার সন্তানের মতো। আজ সে নেই। এত প্রাণ গেলে কি কোনও মানে হয় খেলার?'
দিল্লি তথা গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহুদিন ধরেই প্রাণ কেড়ে চলেছে এই নিষিদ্ধ চাইনিজ মাঞ্জা। নামে নিষিদ্ধ কিন্তু চলে দাপটের সঙ্গেই। জুলাই ২০২২-এ হায়দরপুর উড়ালপুলে এক বাইক আরোহী এভাবে মৃত্যু হয়। পরের মাসেই শাস্ত্রী পার্ক উড়ালপুলে মৃত্যু হয় আর একজনের। নাথু কলোনি উড়ালপুলেও এমনই এক ঘটনা ঘটে। ২০২৩-এর জুলাই মাসে পশ্চিম বিহারে মাত্র সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয় ঘাড়ে মাঞ্জা জড়িয়ে। স্বাধীনতা দিবসে মাঞ্জায় জখম হন খোদ পুলিশও।
পুলিশ সম্প্রতি শহরজুড়ে অভিযান চালিয়ে এক হাজারেরও বেশি চাইনিজ মান্জার রোল বাজেয়াপ্ত করেছে। গ্রেফতার হয়েছে দু'জন। তবুও দমছে না মাঞ্জার কালোবাজারি।
প্রশ্ন উঠছে, সরকার ও প্রশাসন আদৌ কতটা কঠোর হচ্ছে এই বিষয়ে?