গত ২৫ জুন সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের গার্ডরুমে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয় কলেজের দুই ছাত্র, এক প্রাক্তনী এবং নিরাপত্তারক্ষী। অভিযোগ, বিয়ের প্রস্তাব খারিজ করায় তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 4 July 2025 19:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে দীর্ঘ টানাপড়েন কাটিয়ে খুলছে কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ (Kasba Law College)। কলেজে পড়াশোনা শুরু হতে চলেছে আগামী সোমবার, ৭ জুলাই থেকে (Classes from Monday)। যদিও তদন্ত চলায় বন্ধই থাকছে ইউনিয়ন রুম এবং গার্ডরুম। তবে কলেজে ক্লাস চালু করতে সবুজ সংকেত দিয়েছে লালবাজার।
সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশের তরফে ক্লাস শুরুতে অনুমতি মেলার পরই কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল যোগাযোগ করেন উচ্চ শিক্ষা দফতরের এক শীর্ষ কর্তার সঙ্গে। তারপরেই পরিচালন সমিতির বৈঠকে পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। কলেজের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার সকাল ৭টা থেকেই শুরু হবে ক্লাস। খুব শীঘ্রই কলেজের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
তবে, এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। তদন্তের স্বার্থে সিল করে রাখা হচ্ছে গার্ডরুম ও ইউনিয়ন রুম। এই রুমগুলিই মূল ঘটনাস্থল হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, শুক্রবার ভোররাতে মূল অভিযুক্ত এম, পি, জে ও ধৃত নিরাপত্তারক্ষীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গোয়েন্দা ও ফরেন্সিক বিভাগ। পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে নির্যাতিতার বয়ান মিলিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে।

কসবার আইন কলেজে গণধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই কলেজের পঠনপাঠন বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। জানতে চান, কেন এখনও পঠনপাঠন বন্ধ রয়েছে? পরিচালন সমিতির কাছে পাঠানো সেই প্রশ্নের জবাব আসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই। কলেজ জানায়, পুলিশের নির্দেশে মূল ফটকে তালা দেওয়া হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ক্লাস শুরু করা হচ্ছে।
তবে শুধু কসবার এই কলেজ নয়, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, রাজ্যের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুম তালাবন্ধ রাখতে হবে। রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরকে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শান্তা দত্ত দে জানিয়েছেন, “দীর্ঘ দশ-বারো বছর ছাত্রভোট হয়নি। এই অবস্থায় ইউনিয়ন রুমের অপব্যবহার বন্ধে আদালতের এই রায় যথার্থ।”
প্রসঙ্গত, ২৫ জুন সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের গার্ডরুমে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয় কলেজের দুই ছাত্র, এক প্রাক্তনী এবং নিরাপত্তারক্ষী। অভিযোগ, বিয়ের প্রস্তাব খারিজ করায় তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্তরা সকলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গিয়েছে। মূল অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই কলেজের অস্থায়ী পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কলেজ খোলার সিদ্ধান্তে কিছুটা স্বস্তি পেলেও, পড়ুয়াদের অনেকের মধ্যেই এখনও ছায়ার মতো জাঁকিয়ে রয়েছে সেই রাতের আতঙ্ক।