আইনজীবী জানান, ধৃত পিনাকি ভট্টাচার্যর বাড়িতে তাঁর বয়স্ক বাবা-মা আছেন। তিনি নিজেও সুগারের রোগী। তাঁর পক্ষে এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা দেওয়ার কাজ যাঁর তিনি কেন চুপ থাকলেন? কেন অন্যদের চিৎকার করে ডাকলেন না? উঠে আসে এরকম একাধিক প্রশ্ন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 July 2025 19:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা ল কলেজ গণধর্ষণকাণ্ডে (Kasba Law College) মনোজিৎ মিশ্র-সহ প্রধান তিন অভিযুক্তর পাশাপাশি কলেজের নিরাপত্তারক্ষীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই রাতে সাহায্য চেয়েও রক্ষীর কাছ থেকে কোনও সহযোগিতা পাননি নির্যাতিতা ছাত্রী। তাঁর সামনে দিয়েই নির্যাতিতাকে গার্ডরুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্তরা, এমনই গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার ওই মামলায় আদালতে বড় দাবি করলেন ধৃত নিরাপত্তারক্ষীর আইনজীবী। আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল 'ভিক্টিম অফ দ্য সারকামস্ট্যান্সেস' (Victim of Circumstances) অর্থাৎ পরিস্থিতির শিকার'। আদালতে তিনি এও বলেন, 'যদি কোনওরকম কোনও ঘটনা ঘটে থাকে তবে গার্ডকে সাক্ষী হিসেবে ব্যবহার করা হোক। এতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা হবে।'
আইনজীবী জানান, ধৃত পিনাকি ভট্টাচার্যর বাড়িতে তাঁর বয়স্ক বাবা-মা আছেন। তিনি নিজেও সুগারের রোগী। তাঁর পক্ষে এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা দেওয়ার কাজ যাঁর তিনি কেন চুপ থাকলেন? কেন অন্যদের চিৎকার করে ডাকলেন না? উঠে আসে এরকম একাধিক প্রশ্ন। যার জবাবে আইনজীবী জানান, 'এবার দেখতে হবে বাকি অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কী ছিল? তাঁকে কেউ কোনওভাবে আটকে রেখেছিল কি না? এগুলি তদন্তের বিষয়। এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।'
প্রসঙ্গত, এর আগে পুলিশি জেরায় নিরাপত্তারক্ষী দাবি করেছিলেন যে সেই রাতে তাঁর মোবাইল কেড়ে নিয়েছিল অভিযুক্তরা, যাতে তিনি বাইরের কাউকে না খবর দিতে পারেন।
গত ২৫ জুন সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে (South Calcutta Law College) এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ওই কলেজেরই প্রাক্তনী মনোজিৎ মিশ্র এবং দুই বর্তমান পড়ুয়া জইব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়। ধৃত মনোজিৎ (Manojit Mishra) শাসক দলের প্রভাবশালী ছাত্রনেতা বলেই পরিচিত ছিল কলেজে। অন্যদিকে, জইব ও প্রমিত ছিল তাঁর শাগরেদ।
নির্যাতিতা তাঁর বয়ানে জানিয়েছেন, মনোজিতের কথাতেই কলেজের মেন গেট আটকে দেন ওই নিরাপত্তারক্ষী। এরপর গার্ড রুমে তাঁকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পালানোর চেষ্টা করলে শারীরিক নির্যাতনও করা হয়। অভিযুক্তদের দাপটে নিরাপত্তারক্ষী 'অসহায়' ছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছিলেন নির্যাতিতাও।