
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 November 2024 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবিতে শনিবার কলেজ স্কোয়ার থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত মিছিল করেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁদের সঙ্গে দিয়েছে নাগরিক সমাজও। মিছিলের শেষে তাঁদের তরফ থেকে দেওয়া হয় 'জনতার চার্জশিট'। প্রতিবাদী ডাক্তারদের স্পষ্ট বার্তা, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না।
গত ৯ আগস্ট আরজি করের সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয়েছিল ডাক্তারি ছাত্রীর ক্ষতবিক্ষত দেহ। ধর্ষণ-খুনের ঘটনার বিচার চেয়ে সেদিন থেকেই আন্দোলনে নেমেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। অবস্থান-বিক্ষোভ থেকে শুরু করে অনশন সব করেছেন তাঁরা। এখন দফায় দফায় মিছিল করে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়াতে চাইছেন তাঁরা।
এদিনের কর্মসূচির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের অন্যতম মুখ দেবাশিস হালদার বলেন, 'রাজপথ আমরা ছাড়ছি না। আন্দোলন যেমন চলছে, তেমন চলবে। যতদিন না পর্যন্ত বিচার মিলছে ততদিন এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। রাজপথে আছি, থাকব।' যদিও শনিবারের কর্মসূচিতে ডক্টরস ফ্রন্টের একাধিক পরিচিত মুখকে দেখা যায়নি। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁদের সামনে পরীক্ষা বলেই তাঁরা এই মুহূর্তে আন্দোলনে যোগ দেননি।
শনিবারের ডাক্তারদের এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশিষ্টদের অনেকেই যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে চৈতি ঘোষাল, দেবলীনা দত্তের নাম উল্লেখযোগ্য। মিছিলের শুরুতে বড় ব্যানার দেখা যায় যাতে লেখা ছিল, 'কেটে গেছে ৯০ দিন, আর কতদিন বিচারহীন।' একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল ন্যায়ের মূর্তি। মিছিলে যোগদানকারীদের অনেকেই সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, পোস্টার, যেখানে লেখা, ‘বিচার চাই’।
খুন ধর্ষণ কাণ্ডে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। পরে তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ, টালা থানার আইসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করে সিবিআই। তবে ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে সঞ্জয় ছাড়া দ্বিতীয় কোনও গ্রেফতার হয়নি। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে আন্দোলনকারী ডাক্তারি পড়ুয়া থেকে নির্যাতিতার পরিবারের।
যদিও সিবিআই এর তরফে ইতিমধ্যে শিয়ালদহ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে চার্জশিট। আগামী ১১ নভেম্বর থেকে নিম্ন আদালতে শুরু হবে শুনানি পর্বও। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে।