নির্যাতিতা তরুণীর 'অসহযোগিতা' নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। এরপরই দ্বিতীয় বর্ষের ম্যানেজমেন্টের ধৃত ছাত্র পরমানন্দ মহাবীর তোপ্পাওয়ারের জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

শেষ আপডেট: 25 July 2025 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোকা আইআইএমের (Joka IIM) বয়েজ হস্টেলে এক তরুণীকে ধর্ষণে অভিযুক্তকে জামিন দিল আলিপুর আদালত। ৭ দিনের পুলিশি হেফাজত শেষে শনিবার ধৃতকে আদালতে পেশ করা হয়। সূত্রে খবর, নির্যাতিতা তরুণীর 'অসহযোগিতা' নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারক। সবদিক খতিয়ে দেখে দ্বিতীয় বর্ষের ম্যানেজমেন্টের ধৃত ছাত্রের জামিন মঞ্জুর করে আলিপুর আদালত।
এদিনে আদালতে অভিযুক্তের জামিনের বিরোধিতা করেন সরকারি আইনজীবী। ধৃত ছাত্রের জেল হেফাজতের দাবি জানান। শুনানির সময় অভিযুক্তের আইনজীবী জানান, এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। মেডিকো-লিগাল পরীক্ষাও (Medico-legal Test) হয়নি। তিনি বলেন, ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল মামলায় এই দু’টি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযোগ জানার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মেডিকো-লিগাল পরীক্ষা হওয়া জরুরি। কিন্তু এক্ষেত্রে পুলিশ সে বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক জামিনের নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে। জামিনের শর্ত হিসেবে তাঁকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে, রাজ্যের বাইরে যাওয়া যাবে না এবং তদন্তকারী অফিসার যখন ডাকবেন, তখন হাজিরা দিতে হবে।
গত ১২ জুলাই নির্যাতিতা ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল আইআইএম জোকার (IIM Joka Student Arrested) দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়াকে। গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী (সিট) দলও। সিট সূত্রের খবর, তদন্তে কোনও গাফিলতি রাখা হচ্ছে না। জোগাড় হয়েছে ডিজিটাল প্রমাণ, ঘটনাস্থলের ফরেন্সিক নমুনাও সংগ্রহ হয়েছে। কিন্তু এতদিন কেটে গেলেও হয়নি নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষা। পোশাক ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য জমা দেওয়ার বিষয়েও তিনি অনীহা দেখিয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—গোপন জবানবন্দি, সেটিও এড়িয়ে যাচ্ছেন নির্যাতিতা।
তরুণীর এই ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন অভিযুক্তের আইনজীবী সুব্রত সর্দার। সংশয় তৈরি হয় তদন্তকারীদের মধ্যেও। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আইআইএম ছাত্র পরমানন্দকে জেরা করে একাধিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয়ের পর ভিডিও কল হত দু’জনের মধ্যে। তরুণী যে সাইকোলজিস্ট, তা জানার পরেই অভিযুক্ত পরিকল্পনা করেন কাউন্সেলিংয়ের নাম করে তাঁকে ক্যাম্পাসে ডেকে পাঠানোর। এরপরই নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে।
তরুণীর অভিযোগ ছিল, কাউন্সেলিং সেশনের নামে তাঁকে বয়েজ হস্টেলে ডাকেন অভিযুক্ত। সেখানে ঠান্ডা পানীয় ও পিৎজা জাতীয় কিছু খাবার দেওয়া হয় তাঁকে। পুলিশকে নির্যাতিতা জানিয়েছিলেন, সেই পানীয় খাওয়ার পরই অচৈতন্য হয়ে পড়েন। এরপর তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। এমনকী জ্ঞান ফিরলে প্রতিরোধ করতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁর।