নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত স্বীকার করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা অনেক কম।

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 12 September 2025 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ক্যাম্পাসে তৃতীয় বর্ষের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু (Jadavpur University student death) ঘিরে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের পাশের পুকুর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, ওই পড়ুয়ার বাড়ি নিমতায়। তবে ঠিক কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এখনও স্পষ্ট নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেদিন ড্রামা ক্লাবের একটি অনুষ্ঠান চলছিল। তবে এত রাতে অনুষ্ঠান চালানোর অনুমতি ছিল না, স্বীকার করেছেন সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত। তিনি জানান, “অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি অবশ্যই নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রাত অবধি তা চলার কথা ছিল না। অনেক সময় নানা কারণে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অনুষ্ঠান হয়, কিন্তু সেদিন ঠিক কতক্ষণ পর্যন্ত চলেছিল, এখনও জানি না।” তিনি এও বলেন, ঘটনাটি ঘটার সময় আসলে অনুষ্ঠান চলছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের সামনে সহ-উপাচার্য বলেন, “রাতেই আমরা পুলিশকে জানিয়েছিলাম। ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে দ্রুত কেপিসি হাসপাতালে পাঠানো হয়, কিন্তু তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি। ওঁর পরিবার এসে গিয়েছিল, আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা সমব্যথী।”
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অমিতাভ দত্ত স্বীকার করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা অনেক কম। তাঁর কথায়, “এত বড় ক্যাম্পাসে গত কয়েক বছরে অনেক নিরাপত্তারক্ষী অবসর নিয়েছেন। ফলে আমাদের সীমিত জনবল দিয়েই নজরদারি চালাতে হয়। পেট্রলিং টিম হয়তো সেই সময় ওই এলাকায় ছিল না। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।”
ঘটনাস্থলের চারপাশে তিনটি সিসি ক্যামেরা থাকলেও, যে পুকুর থেকে পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেখানে কোনও ক্যামেরা মুখ করে নেই। ফলে তিনি কীভাবে পুকুরে পড়লেন, তা এখনও অজানা। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুকুরের চারপাশে পুলিশি ঘেরাও করা হয়েছে এবং সেখানে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
শুক্রবার সকালে ছাত্রীর বাবা থানায় গিয়েছিলেন, পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মর্গে মেয়ের দেহ শনাক্ত করেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গোটা সময়টায় মুখ খোলেননি বাবা। নীরবই তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।