স্ট্র্যান্ড রোড ও আলিপুর চিড়িয়াখানা (Alipore) সংলগ্ন এলাকা থেকে মিলেছে একাধিক দেশি ও অত্যাধুনিক অস্ত্র।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 December 2025 17:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার (Kolkata) দুই প্রান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র (Arms Recover) উদ্ধার করল পুলিশ। স্ট্র্যান্ড রোড ও আলিপুর চিড়িয়াখানা (Alipore) সংলগ্ন এলাকা থেকে মিলেছে একাধিক দেশি ও অত্যাধুনিক অস্ত্র। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আলিপুর চিড়িয়াখানার পাশে অরফানগঞ্জ এলাকায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে মাটির নীচে পোঁতা অবস্থায় উদ্ধার হয় ১১টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র। এই অস্ত্র মজুতের অভিযোগে রাজেশকুমার সাউ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ধৃত রাজেশ বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর নির্দেশেই তিন মাস আগে ওই এলাকায় অস্ত্রগুলি এনে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় জানান, অরফানগঞ্জ এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র মজুত থাকার খবর পাওয়ার পরেই থানা থেকে পুলিশ দল ও বম্ব স্কোয়াড পাঠানো হয়। যৌথ তল্লাশিতে মঙ্গলবার ভোররাতে মাটির নীচ থেকে ১১টি দেশি ও উন্নত মানের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, উদ্ধারস্থল এলাকায় রাকেশ সিংহের প্রভাব রয়েছে এবং এই অস্ত্রচক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েক জন তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের অনুমান, আগ্নেয়াস্ত্রগুলি বিহারের মুঙ্গের থেকে আনা হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে, শুধু আলিপুর নয়— স্ট্র্যান্ড রোড থেকেও অস্ত্র উদ্ধার করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। বাবুঘাট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে দু’টি ব্যাগ বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় তিনটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০ রাউন্ড কার্তুজ।
এসটিএফ সূত্রে খবর, প্রথমে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রভর্তি ব্যাগ-সহ আটক করা হয়। তাঁকে জেরা করেই অপর অভিযুক্তের হদিস মেলে। পরে তাকেও আটক করে পুলিশ। দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম রবীন্দ্র প্রসাদ ও জিতেন্দ্র প্রসাদ— সম্পর্কে তাঁরা দুই ভাই।
উৎসবের মরসুমে এবং নতুন বছরের প্রাক্কালে শহরের দুই জায়গা থেকে এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এত বিপুল অস্ত্র কলকাতায় কী উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল, এর নেপথ্যে কোনও বড়সড় নাশকতার ছক ছিল কি না, সে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।