বাংলার রাজনীতিতে ‘সেটিং’ আর ‘ষড়যন্ত্র’-এর গল্প হয়তো থামবে না। তবে কলকাতা থেকে অমিত শাহের বার্তায় স্পষ্ট, বিজেপি এই লড়াইকে লোকদেখানো বলে মানতে নারাজ। এখন প্রশ্ন একটাই, এই বক্তব্য মাঠে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তার উত্তর দেবে আগামী দিন।

অমিত শাহ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়
শেষ আপডেট: 30 December 2025 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবই লোকদেখানো, বাংলায় (West Bengal) ক্ষমতায় আসতেই চায় না বিজেপি... দিদি-মোদী সেটিং (Modi-Didi Setting) রয়েছে! রাজ্যের ভোটের লড়াইটা শুধুই গিমিক! এমন গুঞ্জন প্রায়ই শোনা যায় বাংলা রাজনীতির অঙ্গনে। শুধু সাধারণ মানুষের মুখে নয়, বিরোধী শিবিরের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ‘সেটিং-তত্ত্ব’ নিয়ে আলোচনা চলে।
তিনদিনের রাজ্য সফরে (West Bengal Tour) এসে, আজ মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে সেই কানাঘুষোতেই সরাসরি জল ঢাললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্নটা উঠতেই তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “তাহলে আমি এখানে কেন?”
অমিত শাহ স্পষ্ট করে দিলেন, বিজেপির (BJP) শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে শেষ সারির কর্মী - সবার লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলকে (TMC) বাংলা থেকে সরাতে হবে। তিনি বলেন, “বিজেপির নীচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) - সকলেই চান শিকড় থেকে তৃণমূলকে বাংলা থেকে উপড়ে ফেলতে।”
তাঁর আরও ব্যাখ্যা, “নরেন্দ্র মোদীজি নিজে কিছুদিন আগেও বাংলায় এসেছিলেন। জনসভা হয়নি, সেটার আলাদা কারণ আছে। কিন্তু তা নিয়ে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভ্রান্ত ধারণা ছড়াতে চান, ছড়াতে পারেন।”
তবে ‘বিজে-মূল সেটিং তত্ত্ব’ নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে এই সন্দেহ যেন আরও জোরালো হয়েছে। পাড়ায়-পাড়ায় শোনা যায়, আসল লড়াই ভোটবাক্সে (Vote Box) নয়, অন্য কোথাও। দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের একাংশও যে এমনটা মনে করেন, তা অস্বীকার করেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও।
এমনই সময়ে অমিত শাহ (Amit Shah) এসে কড়া বার্তা দিলেন, বিজেপির কোনও নেতা-কর্মী এমন কারও পাশে থাকবে না, যারা অনুপ্রবেশকারীদের (Illegal immigrants) আশ্রয় দেয়। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল সরকার (TMC Govt) রাজ্যকে কার্যত অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে শুধু সীমান্তে কড়াকড়ি নয়, বেআইনিভাবে ঢুকে পড়া মানুষদের চিহ্নিত করে দেশের বাইরে পাঠানো হবে বলেও সাফ জানান তিনি।
অমিত শাহের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে এতটাই আটকে রয়েছেন যে, কোনও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেই মুখ খুলতে চান না। তাঁর দাবি, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই অনুপ্রবেশ বেশি হওয়ার একমাত্র কারণ রাজ্য সরকারের ‘অনুপ্রবেশ-সহনশীলতা’। আর তার ফলেই দেশের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে।
শাহ আরও বলেন, “ভোট হারানোর ভয়েই তৃণমূলের তোষণের রাজনীতি। সেই কারণেই রাজ্যবাসীর স্বার্থ উপেক্ষিত।” এই বক্তব্যের শেষে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, এমন এক শক্ত সরকার আনুন, যারা অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে।
বাংলার রাজনীতিতে ‘সেটিং’ আর ‘ষড়যন্ত্র’-এর গল্প হয়তো থামবে না। তবে কলকাতা থেকে অমিত শাহের বার্তায় স্পষ্ট, বিজেপি এই লড়াইকে লোকদেখানো বলে মানতে নারাজ। এখন প্রশ্ন একটাই, এই বক্তব্য মাঠে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তার উত্তর দেবে আগামী দিন।