অনুপ্রবেশ নিয়ে শাহের (Amit Shah) দাবি, বাংলার ভৌগোলিক মানচিত্রের পাশাপাশি জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, আর সেই প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকার নীরব সমর্থন দিচ্ছে।
.jpeg.webp)
অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 30 December 2025 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য থেকে একের পর এক সন্দেহভাজন ‘জঙ্গি’ এবং অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ার পর থেকেই কেন্দ্রের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলে আসছে রাজ্য সরকার তথা শাসক দল। পরে সরাসরি কেন্দ্রের ‘নীল-নকশা’ এবং বিএসএফ-ই রাজ্যে ‘লোক, গুন্ডা’ ঢোকাচ্ছে বলে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই অনুপ্রবেশের দায় ঝেড়ে বলে এসেছেন, বিএসএফ-ই (BSF) যত নষ্টের গোড়া। কেন্দ্রের ঢিলেমির কারণেই বাংলায় একের পর এক অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ছে। যদিও, এই দাবি মানতে নারাজ শাহ (Amit Shah)। এ ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, রাজ্য সরকারের কাছে জমি চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “সাত সাতটা চিঠি মমতাজিকে লিখেছি। গত ছয় বছরে স্বরাষ্ট্রসচিব তিন বার বাংলায় এসে বৈঠক করেছেন। তার পরেও তৃণমূলের সরকার কেন জমি দিচ্ছে না?”
প্রতিনিয়ত একতরফা এই দোষারোপ না করে মুখ্যমন্ত্রীর দায়ও মনে করিয়ে দিতে চাইলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাও আবার খাস কলকাতা থেকে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) মাঝে মঙ্গলবার কলকাতায় এসে সাংবাদিক বৈঠক করেন অমিত শাহ। মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। মঞ্চে তাঁর এক পাশে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, অন্য পাশে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুরও।
বৈঠকের মূল সুর ছিল, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশে মদত দেওয়ার অভিযোগ। সেই সঙ্গে দুর্নীতি, অপশাসন এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করেন বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগও উঠে আসে সাংবাদিক বৈঠকে।
অনুপ্রবেশ নিয়ে শাহের (Amit Shah) দাবি, বাংলার ভৌগোলিক মানচিত্রের পাশাপাশি জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, আর সেই প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকার নীরব সমর্থন দিচ্ছে। যা শুধু বাংলার নয়, দেশের সুরক্ষার জন্যও গুরুতর বিপদের।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (WB Polls 2026) দিকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা, "বাংলায় বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ প্রশ্নে কড়া অবস্থান নেওয়া হবে। তাঁর হুঁশিয়ারি, ক্ষমতায় এলে শুধু অনুপ্রবেশ রোখাই নয়, যারা বেআইনিভাবে ঢুকেছে তাদের চিহ্নিত করে দেশের বাইরে পাঠানো হবে। মানুষ কেন, কাকপক্ষীও ঢুকতে পারবে না।”
এখানে বলে রাখা দরকার, এসআইআর আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যখন এই প্রক্রিয়াকে “অগোছালো, জবরদস্তিমূলক ও বিপজ্জনক” আখ্যা দিয়েছিলেন, তখনও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah) পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে চাইছে।” শাহ সরাসরি কারও নাম না করলেও তাঁর মন্তব্যের নিশানা যে তৃণমূল, সেটা স্পষ্ট ছিল।